গিলফোর্ডের বুদ্ধির সংগঠন সংক্রান্ত তত্ত্ব | Guilford’s Theory of the Structure of Intellect – SOI

গিলফোর্ডের বুদ্ধির সংগঠন সংক্রান্ত তত্ত্ব (Guilford’s Theory of the Structure of Intellect – SOI) আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানব মস্তিষ্ক কেবল কোনো সাধারণ কম্পিউটার নয়, বরং এটি বহুমাত্রিক বুদ্ধিসম্পন্ন এক সুপার-কম্পিউটার। মনোবিজ্ঞানের ইতিহাসে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে পরিমাপ ও ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে এই তত্ত্বটি একটি বৈপ্লবিক প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হয়। বুদ্ধিসংক্রান্ত প্রথাগত ‘একক উপাদান’ (Unitary) বা ‘দ্বি-উপাদান’ (Two-factor) তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী জে.পি. গিলফোর্ড (J.P. Guilford) যুক্তি দেন যে, মানুষের বুদ্ধিমত্তা কোনো একক বা অবিভাজ্য ক্ষমতা নয়; বরং এটি বহু উপাদানে গঠিত একটি জটিল ও সুসংগঠিত কাঠামো, যা প্রতিনিয়ত আমাদের জ্ঞানীয় প্রক্রিয়াগুলোকে (Cognitive processes) চালিত করে। গিলফোর্ড একটি ত্রিমাত্রিক মডেলের মাধ্যমে অত্যন্ত চমৎকারভাবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অর্থাৎ আমরা কীভাবে চিন্তা করি, কীভাবে তথ্য প্রক্রিয়াজাত করি এবং কীভাবে নতুন সমস্যার সমাধান করি তা তুলে ধরেছেন।

 

গিলফোর্ডের তত্ত্বের ঐতিহাসিক বিবর্তন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গিলফোর্ডের করা কাজের সূত্র ধরেই সরাসরি SOI (Structure of Intellect) কর্মসূচির উদ্ভব ঘটে। সান্তা আনা আর্মি এয়ার বেস (Santa Ana Army Air Base)-এর ‘সাইকোলজিক্যাল রিসার্চ ইউনিট নং ৩’-এর পরিচালক হিসেবে, গিলফোর্ড বিমানকর্মী প্রশিক্ষণার্থীদের (যেমন—পাইলট, ন্যাভিগেটর এবং বোম্বার্ডিয়ার) নির্বাচন ও শ্রেণিবিন্যাসের জন্য লিখিত ‘Aptitude Test’ বা দক্ষতা যাচাইয়ের অভীক্ষা তৈরির এক বিশাল কর্মযজ্ঞের নেতৃত্ব দেন। সেই প্রায়োগিক প্রেক্ষাপটে কেবল একটি সাধারণ স্কোর বা মানের পরিবর্তে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট বৌদ্ধিক সক্ষমতা শনাক্ত ও পরিমাপ করার প্রয়োজন দেখা দেয়; এর ফলে গিলফোর্ডের চিন্তাধারায় (১৯৬৭) ‘Factor-analytic’ বা উপাদান-বিশ্লেষণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে, যা তিনি পরবর্তীতে SOI মডেলে বিধিবদ্ধ রূপ দেন।

সাধারণত ১৯৫০ সালে ‘আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’ (American Psychological Association)-এর বার্ষিক সম্মেলনে গিলফোর্ডের দেওয়া সভাপতির ভাষণ থেকেই এই গবেষণা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা ধরা হয়; ভাষণটি পরবর্তীতে আমেরিকান সাইকোলজিস্ট জার্নালে “Creativity”  (সৃজনশীলতা) শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ভাষণে গিলফোর্ড সৃজনশীলতা বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার অভাবকে ‘বিস্ময়কর ও হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেন এবং সৃজনশীল কাজের মূলে থাকা স্বতন্ত্র বৌদ্ধিক সক্ষমতাগুলো যার মধ্যে ‘Divergent production’ বা বহুমুখী চিন্তনজাত উৎপাদনও অন্তর্ভুক্ত ছিল শনাক্ত করার লক্ষ্যে একটি উপাদান-বিশ্লেষণমূলক গবেষণার রূপরেখা তুলে ধরেন। ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় (University of Southern California) ‘অ্যাপটিটিউড রিসার্চ প্রজেক্ট’ (Aptitude Research Project)-এর আওতায় কাজ করার সময়, তিনি ছয় বছর পর তাঁর ত্রিমাত্রিক মডেলটির প্রথম আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করেন (গিলফোর্ড, ১৯৫৬) এবং পরবর্তীতে ‘The Nature of Human Intelligence’ (গিলফোর্ড, ১৯৬৭) গ্রন্থে এর পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

 

বুদ্ধির সংগঠন (Structure of Intellect)

‘Structure of Intellect’ (SOI) বা ‘বুদ্ধির সংগঠন সংক্রান্ত কাঠামো’ মডেলটি হল মানব বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক একটি তত্ত্ব, যা ১৯৫০-এর দশক থেকে আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী জে.পি. গিলফোর্ড (J.P. Guilford) গড়ে তুলেছিলেন। এই মডেলে বুদ্ধির সংগঠন সংক্রান্ত সক্ষমতাকে কোনো একক বা সাধারণ ক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা না করে বরং বিভিন্ন স্বতন্ত্র ক্ষমতার সমষ্টি হিসেবে দেখা হয়; গিলফোর্ড ১৯৫৬ খিস্টাব্দে এই ক্ষমতাগুলোকে তিনটি মাত্রায় বিন্যস্ত করেন। যথা- প্রক্রিয়াগত মাত্রা (Operational dimension), বিষয়বস্তুগত মাত্রা (Content dimension) এবং ফলাফলগত মাত্রা (Product dimension)। সেই সময়ের বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক অধিকাংশ তত্ত্ব যেখানে একটি একক সাধারণ উপাদানের (General factor) সন্ধান করত, সেখানে গিলফোর্ড প্রস্তাব করেন যে বুদ্ধিমত্তা হল অসংখ্য স্বাধীন ক্ষমতার একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা; প্রতিটি ক্ষমতা একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া, একটি নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এবং একটি নির্দিষ্ট ফলাফলের পারস্পরিক সংযোগ বা সমন্বয় থেকে উদ্ভূত হয়। গিলফোর্ড উপরিউক্ত মাত্রাগুলিকে আবার একাধিক শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। এই সকল মাত্রা সম্পর্কিত বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে দেওয়া হল-

প্রক্রিয়াগত মাত্রা (Operational dimension)

চিন্তা করার কাজ বা তথ্য প্রক্রিয়াজাত করার পদ্ধতি

প্রত্যভিজ্ঞা (Cognition)

কোনো কিছু শনাক্ত করা ও আবিষ্কার করা। 

স্মৃতি (Memory)

চিন্তার বিষয়বস্তু মনে রাখা এবং তা পুনরুদ্ধার বা স্মরণ করা।

অভিসারী চিন্তন (Convergent production)

কোনো সমস্যার জন্য একটি সর্বোত্তম সমাধান খুঁজে বের করা বা তৈরি করা।

অপসারী চিন্তন (Divergent production)

কোনো সমস্যার জন্য নানাবিধ ধারণা বা সমাধান তৈরি করা।

মূল্যায়ন (Evaluation)

বুদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়বস্তু বা সংগৃহীত তথ্যের প্রকৃতি যেমন তা ইতিবাচক না নেতিবাচক, ভালো না খারাপ ইত্যাদি সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

বিষয়বস্তুগত মাত্রা (Content dimension)

যেসব উপাদানের ভিত্তিতে আমরা চিন্তা করি বা সংশ্লিষ্ট তথ্যের ধরন

দর্শনগত (Visual)

উদ্দীপকের যেসব বৈশিষ্ট্য আমরা দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে অনুভব করতে পারি; যেমন- রঙ, আকার, আকৃতি, গঠনবিন্যাস (texture) এবং কোনো চিত্রের অন্যান্য দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য।

শ্রবণগত (Auditory)

উদ্দীপকের যেসব বৈশিষ্ট্য আমরা শ্রবণশক্তির মাধ্যমে অনুভব করতে পারি; যেমন- কণ্ঠস্বর ও শব্দ।

সাংকেতিক (Symbolic)

সংখ্যা, বর্ণ, প্রতীক ও নকশা।

বিমূর্ত ভাষামূলক (Semantic)

শব্দ ও ধারণার অর্থ।

আচরণগত (Behavioural)

মানুষের কার্যকলাপ ও অভিব্যক্তি।

ফলাফলগত মাত্রা (Product dimension)

চিন্তার মাধ্যমে আমরা যে ধারণা বা সিদ্ধান্তে উপনীত হই, অর্থাৎ চিন্তার ফসল

একক (Units)

সীমিত আকারের স্বতন্ত্র তথ্য; যেমন- একটিমাত্র সংখ্যা, অক্ষর বা শব্দ।

শ্রেণি (Classes)

কোনো উচ্চতর ধারণার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত তথ্যের এককগুলোর সমষ্টি (যেমন- পুরুষ + নারী = মানুষ)।

সম্পর্ক (Relations)

বিভিন্ন ধারণার মধ্যে সংযোগ।

ব্যবস্থা বা তন্ত্র (Systems)

সম্পর্কের বিন্যাস বা শ্রেণিবিন্যাস।

রূপান্তর (Transformation)

বুদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়বস্তুর পরিবর্তন বা পুনর্গঠন।

তাৎপর্য বা অনুমিত সিদ্ধান্ত (Implications)

বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে সিদ্ধান্ত বা অনুমান গ্রহণ।

এই মডেলটিকে সাধারণত একটি ঘনক বা কিউব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যার তিনটি অক্ষ তিনটি মাত্রাকে নির্দেশ করে। এই মাত্রাগুলোর পারস্পরিক বিন্যাস বা সমন্বয়ের প্রকৃতির কারণে, মডেলটি ঘনকের ভেতরের প্রতিটি কক্ষের (Cell) জন্য একটি স্বতন্ত্র ক্ষমতার অস্তিত্ব নির্দেশ করে ১৯৬৭ সালের উপস্থাপনায় প্রাথমিকভাবে এর সংখ্যা ছিল ১২০টি; পরবর্তীতে গিলফোর্ড কিছু বিভাগকে উপ-বিভাগে বিভক্ত করায় এই সংখ্যা বেড়ে ১৫০ এবং শেষ পর্যন্ত ১৮০-তে উন্নীত হয়।

যেহেতু প্রতিটি সক্ষমতা (Ability) প্রতিটি মাত্রার (Dimension) একটি নির্দিষ্ট বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত, তাই মোট সক্ষমতার সংখ্যা হল বিভিন্ন মাত্রার বিভাগ-সংখ্যার গুণফল। ১৯৬৭ সালের মডেলে পাঁচটি প্রক্রিয়া (Operations), চারটি বিষয়বস্তু (Contents) এবং ছয়টি ফলাফল (Products) ছিল, যার ফলে মোট সক্ষমতার সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ × ৪ × ৬ = ১২০-তে। গিলফোর্ড যখন ‘চিত্রভিত্তিক বিষয়বস্তু’-কে (Figural content) দর্শনগত (Visual) ও শ্রবণগত (Auditory)-এই দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করলেন, তখন বিষয়বস্তুর সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়াল এবং মোট সক্ষমতার সংখ্যা হল ৫ × ৫ × ৬ = ১৫০। পরবর্তীতে গিলফোর্ড (১৯৮৮) স্মৃতি (Memory) প্রক্রিয়াটিকে স্মৃতি ধারণ (Memory recording) ও স্মৃতি সংরক্ষণ (Memory retention)-এই দুই ভাগে বিভক্ত করার ফলে প্রক্রিয়ার সংখ্যা বেড়ে ছয়টি হল এবং মোট সক্ষমতার সংখ্যা দাঁড়াল ৬ × ৫ × ৬ = ১৮০-তে। নিম্নে ১৫০টি উপাদান বিশিষ্ট একটি মডেলের চিত্র উপস্থাপন করা হল-

চিত্র : গিলফোর্ডের বুদ্ধির সংগঠন সংক্রান্ত মডেল (SOI)

এই সম্প্রসারণ কোনো খেয়ালখুশিমতো করা পরিবর্তন ছিল না; প্রতিটি বিভাজনের পেছনেই এই যুক্তি কাজ করেছিল যে, গিলফোর্ড আগে যে দুটি সক্ষমতাকে একটি হিসেবে গণ্য করেছিলেন, সেগুলো আসলে স্বতন্ত্র। তবে এর ফলে মডেলটির একটি প্রধান দুর্বলতাও প্রকাশ পায়। কোনো তত্ত্বে যখনই সূক্ষ্ম পার্থক্যের সম্ভাবনা দেখা দেয় এবং তার ভিত্তিতেই উপাদান বা ফ্যাক্টরের সংখ্যা বাড়ানো হতে থাকে, তখন সেই তত্ত্বের আকার সীমাহীনভাবে বাড়তে পারে। আর ১৮০টি খোপ বা বিভাগবিশিষ্ট এমন একটি শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির জন্য বিপুল পরিমাণ প্রমাণের প্রয়োজন হয় অর্থাৎ প্রতিটি খোপের জন্য একটি করে পৃথক ও পুনরাবৃত্তিযোগ্য ফ্যাক্টর বা উপাদানের অস্তিত্ব প্রমাণ করা জরুরি হয়ে পড়ে। গিলফোর্ডের নিজের ভাষ্যমতে, ১৯৬০-এর দশকের শেষ নাগাদ পরীক্ষার মাধ্যমে আনুমানিক একশটি সম্ভাব্য সক্ষমতা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। এর ফলে মডেলটির বিশাল অংশের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ফ্যাক্টর বা উপাদানের সংখ্যাটিই মডেলের সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়ে পরিণত হয়।

 

SOI মডেলের শিক্ষাগত তাৎপর্য

  1. এই তত্ত্বটি এমন একটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যেখানে শিশুর মস্তিষ্ককে কম্পিউটারের মতো কাজ করতে দেখা হয় অর্থাৎ তথ্য গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং তার ব্যবহার।
  2. এটি শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে সহায়তা করে।
  3. যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তা থাকা সত্ত্বেও যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনায় আশানুরূপ ফলাফল করতে পারে না, তাদের সেই ব্যর্থতার কারণ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে SOI মডেলটি অত্যন্ত কার্যকর।
  4. এটি ইঙ্গিত দেয় যে, উচ্চস্তরের মানসিক প্রক্রিয়া, যেমন- চিন্তন সম্পর্কে সঠিক বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হলে আমাদের পাঠক্রম বা শিক্ষাদান পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
  5. ১৫০টি স্বতন্ত্র বৌদ্ধিক সক্ষমতা চিহ্নিত করার মাধ্যমে, এই মডেলটি আমাদের যাচাই করার সুযোগ করে দেয় যে আমরা প্রতিটি সক্ষমতার প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছি কি না এবং কীভাবে সেগুলোর উন্নতি ঘটানো সম্ভব।
  6. এটি বিশেষ মেধাসম্পন্ন শিশুদের জন্য উপযুক্ত ও সমৃদ্ধকরণমূলক কর্মসূচি (Enrichment programmes) প্রণয়নে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  7. এটি সুনির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে।
  8. বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য নানাবিধ মূল্যায়ন বা পরীক্ষা পদ্ধতি তৈরির ক্ষেত্রে SOI মডেলটি অত্যন্ত উপযোগী।
  9. শিখন, স্মৃতিশক্তি এবং সমস্যা সমাধানের মতো ক্ষেত্রগুলোতে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গিলফোর্ডের এই ধারণাটি অত্যন্ত মূল্যবান প্রমাণিত হবে।
  10. এই মডেলটি এমন অনেক সক্ষমতাকে উন্মোচিত করেছে যা আগে অজানা ছিল।
  11. বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

মানব বুদ্ধির সংগঠন সংক্রান্ত সক্ষমতার সম্পূর্ণ পরিসরকে বিন্যস্ত বা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে SOI মডেলটি ছিল তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রচেষ্টা। যদিও উপাদানগুলোর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা পরবর্তীকালের পরীক্ষামূলক যাচাই-বাছাইয়ে পুরোপুরি টিকে থাকেনি, তবুও এই মডেলটি দুটি দীর্ঘস্থায়ী অবদান রেখে গেছে: এটি বিভিন্ন ধরনের ক্ষমতা নিয়ে আলোচনার জন্য একটি পরিভাষা বা শব্দভাণ্ডার তৈরি করেছে এবং ‘Divergent thinking’ বা ‘বহুমুখী চিন্তন’-কে একটি স্বতন্ত্র ও পরিমাপযোগ্য বুদ্ধি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে।

 

 

আরও পোস্ট পড়তে - এখানে ক্লিক করুন

 

 

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি
  1. Managal, S.K. Advanced Educational Psychology (2nd ed.). PHI Learning Private Limited, New Delhi.
  2. Aggarwal, J.C. Essential of Educational Psychology (2nd ed.). Vikas Publishing House PVT. LTD., New Delhi.
  3. গুপ্ত, অশোক। শিক্ষা মনোবিজ্ঞান। সেন্ট্রাল লাইব্রেরী, কলকাতা।
  4. ঘোষ, সনৎ কুমার। শিখনে মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি। ক্লাসিক বুকস্, কলকাতা।
  5. ইসলাম, নূরুল। শিক্ষামনোবিদ্যার রূপরেখা। শ্রীধর প্রকাশনী, কলকাতা।

 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *