এরিক এরিকসনের মনোসামাজিক বিকাশের পর্যায়সমূহ | Erik Erikson’s Stages of Psychosocial Development

এরিক এরিকসনের বর্ণিত মনোসামাজিক বিকাশের পর্যায়সমূহ (Erik Erikson’s Stages of Psychosocial Development) যেন আমাদের জীবনের এক একটি জাদুকরী অধ্যায়। শৈশবের সেই প্রথম কান্না থেকে শুরু করে জীবনের শেষলগ্নে জানালার ধারে বসে অতীতের স্মৃতি রোমন্থন। আমাদের মন কীভাবে বিবর্তিত ও বিকশিত হয়, তার এক নিখুঁত মানচিত্র এঁকেছেন মনোবিজ্ঞানী এরিকসন। কেন আমরা সমাজকে বিশ্বাস করতে শিখি? কৈশোরে কেন আমরা ‘আমি কে?’ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজি কিংবা, মধ্যবয়সে কেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছু করার তীব্র তাগিদ অনুভব করি? এসব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে এরিকসনের বর্ণিত জীবনের সেই আটটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের মধ্যেই।

 

Table of Contents

এরিকসনের মনোসামাজিক বিকাশের তত্ত্ব

মনোসামাজিক বিকাশের তত্ত্বটি ১৯৫০-এর দশকে মনোবিজ্ঞানী ও মনোবিশ্লেষক এরিক এরিকসন প্রবর্তন করেন। যদিও এটি ফ্রয়েডের মনোযৌন বিকাশের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে নির্মিত, এটি কেবল শৈশবের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে সাদৃশ্য টানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সামাজিক প্রভাবকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং বিকাশের ধারণাটিকে প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত প্রসারিত করে। এই তত্ত্বটি জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং সামাজিক উপাদান দ্বারা গঠিত, জীবনব্যাপী মানব বিকাশের আটটি ধারাবাহিক পর্যায়ের রূপরেখা দেয়। এই জৈব-মনোসামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বার্ধক্যবিদ্যা, ব্যক্তিত্বের বিকাশ, পরিচয় গঠন এবং জীবনচক্রের বিকাশসহ বিভিন্ন অধ্যয়নের ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করেছে।

এরিকসন মনে করতেন যে, সামাজিক অভিজ্ঞতা একজনের জীবনজুড়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিটি পর্যায় আমাদের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা ও পারিপার্শ্বিক সামাজিক পরিবেশের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত একটি নির্দিষ্ট দ্বন্দ্ব দ্বারা সংজ্ঞায়িত হয়।

 

এরিকসনের তত্ত্বের প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয়সমূহ

এরিক এরিকসনের মনোসামাজিক বিকাশ তত্ত্ব (Psychosocial development theory) অনুযায়ী, মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ কোনো নির্দিষ্ট বয়সে থেমে যায় না; বরং জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আটটি ভিন্ন ধাপের মধ্য দিয়ে তা আজীবন চলতে থাকে। প্রতিটি ধাপে মানুষ এমন কিছু সুনির্দিষ্ট সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হয়, যা তাদের চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখে। সহজ কথায়, বিষয়টি অনেকটা আটতলা একটি ভবনের মতো উপরের তলাগুলোতে সফলভাবে জীবনযাপনের জন্য নিচের তলাগুলোতে একটি মজবুত ভিত্তি থাকা অপরিহার্য। এরিকসনের তত্ত্বের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হল-

  1. মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ কেবল শৈশবেই সীমাবদ্ধ নয়; জন্ম থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত মানুষের মন ও আচরণে পরিবর্তন ঘটতে থাকে। জীবনের প্রতিটি ধাপেই নিজস্ব কিছু চ্যালেঞ্জ বা সমস্যা থাকে।
  2. জীবনের প্রতিটি ধাপে মানুষ একটি সুনির্দিষ্ট দ্বন্দ্ব বা সংকটের মুখোমুখি হয় যা মূলত দুটি বিপরীতমুখী মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার মধ্যকার লড়াই (যেমন: বিশ্বাস বনাম অবিশ্বাস)। একজন ব্যক্তি কীভাবে এই সংকটের সমাধান করেন, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে তার ভবিষ্যৎ আচরণ।
  3. মানুষের বিকাশ একটি পূর্বনির্ধারিত ও সুনির্দিষ্ট ক্রম অনুসরণ করে চলে। এক ধাপ বাদ দিয়ে সরাসরি পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব নয়; কোনো ধাপে অর্জিত সাফল্য বা ব্যর্থতা পরবর্তী ধাপকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
  4. সমাজের অন্যদের সাথে মিথস্ক্রিয়া ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই আমাদের আত্ম-পরিচয় বা ‘অহং’ (Ego) গড়ে ওঠে। কোনো ধাপের সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করলে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়, আর যথাযথভাবে সমাধান করতে ব্যর্থ হলে মনে সন্দেহ ও হীনম্মন্যতার সৃষ্টি হয়।
  5. প্রতিটি ধাপের দ্বন্দ্ব সফলভাবে সমাধানের ফলে ব্যক্তির মধ্যে একটি বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক শক্তি বা গুণাবলির বিকাশ ঘটে। যেমন- প্রথম ধাপে সফল উত্তরণ ব্যক্তির মধ্যে আশার সঞ্চার করে, আর শেষ ধাপে সফল হওয়া তাকে ‘প্রজ্ঞা’ অর্জনে সহায়তা করে। এই গুণাবলি মানুষকে পরবর্তী জীবনে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।

 

এরিকসনের মনোসামাজিক বিকাশের স্তরসমূহ

এরিক এরিকসন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সমগ্র জীবনকালকে আটটি স্বতন্ত্র পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন। প্রতিটি পর্যায়েই ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক (মনোসামাজিক) সংকটের বা দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হতে হয়। এই সংকট সফলভাবে অতিক্রম করার মধ্য দিয়ে ব্যক্তি বিশেষ কোনো মানবিক গুণ বা শক্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়। এরিকসনের মনোসামাজিক বিকাশের আটটি পর্যায় সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হল-

চিত্র : এরিক এরিকসনের মনোসামাজিক বিকাশের পর্যায়সমূহ
প্রথম স্তর : বিশ্বাস বনাম অবিশ্বাস (Trust vs. Mistrust)

এই পর্যায়ে শিশুর বিকাশ মূলত ‘বিশ্বাস’ ও ‘অবিশ্বাস’-এর ধারণাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এই পর্যায়টি জন্মের সময় শুরু হয় এবং সাধারণত শিশুটির বয়স ১৮ মাস হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী হয়। জন্মের মুহূর্ত থেকেই শিশু তার চারপাশের জগৎ সম্পর্কে জানতে শুরু করে এবং সব ধরনের পরিচর্যার জন্য পুরোপুরি তার বাবা-মা বা অন্যান্য পরিচর্যাকারীর ওপর নির্ভর করে।

শিশুর মধ্যে বিশ্বাসের মনোভাব গড়ে ওঠে যখন সে কোনো অস্বস্তি বা কষ্ট প্রকাশ করে, যেমন- কান্না বা অস্থিরতার মাধ্যমে এবং তার মা তাকে কোলে নিয়ে, খাওয়ানো বা অন্য কোনোভাবে তার যত্ন নিয়ে তার প্রয়োজন মেটান। সময়ের সাথে সাথে শিশুটি বুঝতে শেখে যে, সে অন্যান্য পরিচর্যাকারীদেরও বিশ্বাস করতে পারে। এর বিপরীতে, যদি শিশুটি অবহেলার শিকার হয় বা তার প্রয়োজনগুলো পূরণ না করা হয়, তবে তার মধ্যে অবিশ্বাসের মনোভাব তৈরি হয়। বিকাশের এই পর্যায়ে যদি বিশ্বাসের ভিত্তি গড়ে না ওঠে, তবে পরবর্তী জীবনে তা গড়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে, কোনো সংকটের মুখোমুখি হলে তারা নিরাশা বা অসহায়ত্ব বোধ করতে পারে।

দ্বিতীয় স্তর : স্বশাসন বনাম লজ্জা ও সংশয় (Autonomy vs. Shame and Doubt)

এই পর্যায়ের সূচনা প্রারম্ভিক বাল্যে। ১৮ মাস বয়স থেকে শুরু হয়ে ২ বা ৩ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী এই পর্যায়ে শিশুর বিকাশের মূল বিষয় হল ‘স্বশাসন’ বনাম ‘লজ্জা ও সংশয়’।

এই সময় শিশুরা নিজে নিজে কাজ করতে শেখে। তাদের কাজের প্রশংসা করার মাধ্যমে বাবা-মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ তাদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরশীলতার (হেঁটে বেড়ানো, টয়লেট ব্যবহার করা কিংবা নিজের পছন্দের পোশাকটি আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া) ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেন। কিন্তু বাবা-মা বা অন্যান্য সদস্যগণ যদি তাদের নিরুৎসাহিত (অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণপরায়ণ বা কঠোর মনোভাবাপন্ন) করেন বা স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেন, তবে তারা হতাশ ও লজ্জিত বোধ করতে পারে এবং নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহের শিকার হতে পারে।

তৃতীয় স্তর : উদ্যোগ বনাম অপরাধবোধ (Initiative vs. Guilt)

এই পর্যায়ের বিস্তার প্রাক-স্কুল (Preschool) বা নার্সারি (Nursery)। এই পর্যায়ের বিকাশ মূলত ‘উদ্যোগ’ এবং ‘অপরাধবোধ’-কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এই পর্যায়টি ৩ বছর বয়সে শুরু হয় এবং ৬ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ সময় শিশু স্বাধীনভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেয় এবং নিজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা গড়ে তুলতে শুরু করে।

উৎসাহ পেলে শিশুরা স্বাধীনভাবে কোনো কাজ (ভাই-বোন কিংবা সহপাঠীদের সাথে খেলাধুলা, অগোছালো পরিবেশ বা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা খেলনা গুছিয়ে রাখা, স্কুলের বই গুছিয়ে রাখা) করার উদ্যোগ নেয় এবং নিজেদের জীবনের একটি উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য অনুভব করে। কিন্তু পরিচর্যাকারীদের (বাবা-মা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা) কাছ থেকে যদি তারা কঠোর সমালোচনা বা নিরুৎসাহের সম্মুখীন হয়, তবে তাদের মধ্যে অপরাধবোধের সৃষ্টি হতে পারে।

চতুর্থ স্তর : উদ্যম বনাম হীনম্মন্যতা (Industry vs. Inferiority)

এই সময়ে শিশুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। এই পর্যায়ে শিশুর বিকাশ মূলত ‘উদ্যম’ (industry) এবং ‘হীনম্মন্যতা’র (inferiority) দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এই পর্যায়টি ৬ বছর বয়স থেকে শুরু হয়ে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ সময় শিশু নিজের স্বতন্ত্র সত্তা সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। তারা পড়াশোনা ও খেলাধুলায় অর্জিত সাফল্যের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করে এবং আশেপাশের মানুষের কাছ থেকে প্রশংসা ও সমর্থন প্রত্যাশা করে।

শিক্ষক, পরিচর্যাকারী এবং সমবয়সীরা যদি তাদের সহায়তা ও সাফল্যের স্বীকৃতি প্রদান করেন, তবে তারা নিজেদের দক্ষ ও কর্মক্ষম বলে মনে করে। আর যদি তারা তাদের কাজের জন্য ইতিবাচক সাড়া বা উৎসাহ না পায়, তবে তাদের মধ্যে হীনম্মন্যতা বা অযোগ্যতার বোধ তৈরি হতে পারে।

পঞ্চম স্তর : আত্মপরিচয় বনাম আত্মপরিচয়ের বিভ্রান্তি (Identity vs. Role Confusion)

মনোসামাজিক বিকাশের পঞ্চম পর্যায়টি সাধারণত কৈশোরের উত্তাল সময়ে ঘটে। এই পর্যায়ে বিকাশের মূল কেন্দ্রবিন্দু হল ‘আত্মপরিচয়’ গঠন এবং ভূমিকা বা অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি। এই পর্যায়টি সাধারণত ১২ বছর বয়সে শুরু হয় এবং ২০ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মনোবিজ্ঞানের পরিভাষায়, ‘Identity Crisis’ বা ‘আত্মপরিচয়-সংকট’ বলতে যে বিষয়টি বোঝানো হয়, তার উৎপত্তি বিকাশের এই পর্যায় থেকেই।

এই বয়সে কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের সত্তা ও ব্যক্তিগত পরিচয় গড়ে তোলার প্রয়োজন হয়। তারা বোঝার চেষ্টা করে, সে আপনি আসলে কে? এবং প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের জন্য লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারগুলো কী হবে? এই কিশোর-কিশোরীরা পৃথিবীতে নিজের অবস্থান বা জায়গাটি গড়ে তুলতে চায়। নতুন সম্ভাবনা অন্বেষণে উৎসাহ ও সহায়তা পায়, তাদের মধ্যে দৃঢ় আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা এবং নিজেদের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণবোধ গড়ে ওঠে। অন্যদিকে, যাদের নিজস্ব বিশ্বাস ও আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা থাকে, প্রত্যাশা ও দায়িত্বের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়ে, তারা নিজেদের ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতা ও বিভ্রান্তিতে ভোগে। ফলস্বরূপ নিজেদের আত্মপরিচয় সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে না।

এই পর্যায়ে সফল হলে ব্যক্তি নিজের সত্তা বা পরিচয় সম্পর্কে অবিচল থাকতে পারে। ব্যর্থতা ‘ভূমিকা বিভ্রান্তি’ (Role confusion) এবং দুর্বল আত্মপরিচয়ের জন্ম দেয়। ব্যক্তিগত পরিচয় গঠনে এই পর্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমন এক পরিচয় যা সারা জীবন ধরে ব্যক্তির আচরণ ও বিকাশকে প্রভাবিত করে। মনোবিজ্ঞানীরা যখন ‘পরিচয়’ (Identity)-এর কথা বলেন, তখন তাঁরা মূলত সেই বিশ্বাস, আদর্শ ও মূল্যবোধকে বোঝান যা একজন ব্যক্তির আচরণকে গঠন ও পরিচালিত করে। এই পর্যায়টি সফলভাবে অতিক্রম করলে ‘আনুগত্য’ বা ‘বিশ্বস্ততা’ (Fidelity) অর্জিত হয়। এটি এমন একটি ধারণা যাকে এরিকসন সামাজিক মানদণ্ড ও প্রত্যাশা অনুযায়ী জীবনযাপনের সক্ষমতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এরিকসন মনোসামাজিক বিকাশের প্রতিটি পর্যায়কেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও, তিনি ‘অহং-পরিচয়’ বা ‘ইগো আইডেন্টিটি’ (Ego identity)-র বিকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ইগো আইডেন্টিটি হল নিজের সম্পর্কে সেই সচেতন বোধ যা আমরা সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে তুলি; মনোসামাজিক বিকাশের ‘আত্মপরিচয় বনাম আত্মপরিচয়ের বিভ্রান্তি (Identity vs. confusion) পর্যায়ে এটিই প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে।

ষষ্ঠ স্তর : অন্তরঙ্গতা বনাম বিচ্ছিন্নতা (Intimacy vs. Isolation)

তরুণ বয়স্কদের অন্যদের সাথে ঘনিষ্ঠ ও ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজন হয়। এই পর্যায়ে বিকাশের মূল বিষয় হল ‘অন্তরঙ্গতা’ (Intimacy) বনাম ‘বিচ্ছিন্নতা’ (Isolation)। এই পর্যায়টি ২০ বছর বয়সে শুরু হয় এবং ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী হয়। জীবনের এই সময় তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা  অন্যদের সাথে ঘনিষ্ঠ ও ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং সেগুলোকে আরও সুদৃঢ় করেন।

বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সাথে অর্থবহ সম্পর্ক থাকলে তরুণ প্রাপ্তবয়স্করা অন্যদের সাথে ঘনিষ্ঠতা অনুভব করেন। আর সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিণতি হয় একাকীত্বতা ও বিচ্ছিন্নতা। এই পর্যায়টি প্রারম্ভিক প্রাপ্তবয়স্ককালের অন্তর্ভুক্ত; এটি এমন একটি সময় যখন ব্যক্তি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

এরিকসনের মতে, অন্যদের সাথে ঘনিষ্ঠ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। যারা এই পর্যায়ে সফল হন, তারা দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হন। জীবনের প্রতিটি পর্যায় পূর্ববর্তী পর্যায়গুলোতে অর্জিত দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এরিকসন বিশ্বাস করতেন যে, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য নিজের সম্পর্কে দৃঢ় ধারণা বা ব্যক্তিগত সত্তার (Identity) উপস্থিতি অপরিহার্য। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের নিজস্ব সত্তা বা পরিচয়ের বোধ দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনা কম থাকে এবং তাদের আবেগীয় বিচ্ছিন্নতা, একাকীত্ব ও বিষণ্ণতায় ভোগার ঝুঁকি বেশি থাকে।

সপ্তম স্তর : উৎপাদনশীলতা বনাম স্থবিরতা (Generativity vs. Stagnation)

এই পর্যায়ে বিকাশের মূল বিষয়বস্তু হল ‘উৎপাদনশীলতা’ (Generativity) এবং ‘স্থবিরতা’ বা ‘আত্মমগ্নতা’র (Stagnation) মধ্যকার দ্বন্দ্ব। এই পর্যায়টি ৪৫ বছর বয়সে শুরু হয় এবং ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই পর্যায়ে প্রাপ্তবয়স্করা এমন কিছু সৃষ্টি বা লালন-পালনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন যা তাঁদের মৃত্যুর পরেও টিকে থাকবে; সাধারণত সন্তান লালন-পালন কিংবা অন্যের উপকারে আসে এমন ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জিত হয়।

‘উৎপাদনশীলতা’র মূল বৈশিষ্ট্য হল যত্ন ও দায়িত্ববোধ। এই পর্যায়ে ব্যক্তি তার আশেপাশের মানুষের দেখাশোনা করে এবং অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। সহজ ভাষায়, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে আমরা মূলত পেশা ও পরিবারের ওপর মনোযোগ দিয়ে আমাদের জীবন গড়ে তুলি। এই পর্যায়ের মূল দ্বন্দ্বটি আবর্তিত হয় এই বিষয়কে কেন্দ্র করে যে, ব্যক্তি মনে করছেন কি না তিনি পৃথিবীতে অর্থবহ কোনো অবদান রাখতে পেরেছেন। তবে, যদি কেউ অন্যদের জন্য পথপ্রদর্শক বা পরামর্শদাতা হিসেবে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হন, তবে মনে তিক্ততা ও অসন্তোষ দানা বাঁধতে পারে। এর ফলে অস্থিরতা এবং বন্ধু-বান্ধব, পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

যারা এই পর্যায়ে সফল হন, তারা মনে করেন যে পরিবার ও সমাজে সক্রিয় ভূমিকা পালনের মাধ্যমে তারা পৃথিবীতে অবদান রাখছেন। বিপরীতভাবে, যারা এই উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হন, তারা নিজেদের অকর্মণ্য এবং পারিপার্শ্বিক জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করেন। এই পর্যায়টি সফলভাবে অতিক্রম করার মাধ্যমে যে গুণটি অর্জিত হয়, তা হল- ‘যত্ন’ বা ‘মমত্ববোধ’ (Care)। নিজের অর্জনের জন্য গর্ববোধ করা, সন্তানদের বেড়ে উঠতে দেখা এবং সঙ্গীর সাথে একাত্মতার অনুভূতি গড়ে তোলা এগুলোই এই পর্যায়ের প্রধান পাওয়া।

অষ্টম স্তর : আত্মসন্তুষ্টি বনাম হতাশা (Ego Integrity vs. Despair)

এরিকসনের প্রস্তাবিত বিকাশের এই সর্বশেষ পর্যায়টি মূলত বার্ধক্যে সংঘটিত হয়। এই পর্যায় মূলত ‘আত্মসন্তুষ্টি’ (Ego Integrity) এবং ‘হতাশা’র (Despair)-এই দুইয়ের মধ্যকার দ্বন্দ্ব দ্বারা সংজ্ঞায়িত। ৬৫ বছর বয়সে শুরু হওয়া এই পর্যায়টি জীবনের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। যারা নিজেদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট, তারা মর্যাদাবোধের সাথে বার্ধক্যে পদার্পণ করেন; তারা নিজেদের অর্জনের জন্য গর্ববোধ করেন এবং অর্জিত প্রজ্ঞা বা অভিজ্ঞতা অন্যদের সাথে ভাগ করে নিতে আগ্রহী হন। এর বিপরীতে, কেউ যদি কোনো অর্জনের অনুভূতি ছাড়াই নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকান, তবে তিনি হতাশায় নিমজ্জিত হতে পারেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অতীতের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে অনুশোচনা বা আক্ষেপের বিষয়টিই প্রধান হয়ে ওঠে। সহজ ভাষায়, এই পর্যায়ে ব্যক্তিরা তাদের অতীতের দিকে ফিরে তাকান এবং বিচার-বিশ্লেষণ করেন যে তারা তাদের যাপিত জীবন নিয়ে সুখী কি না, অথবা কোনো কাজ করা বা না-করার বিষয়ে তাদের মনে কোনো অনুশোচনা রয়েছে কি না।

এই পর্যায়গুলোর প্রতিটিই এমন এক ভিত্তি বা উপাদান হিসেবে কাজ করে, যা জীবনজুড়ে পরিপক্বতা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি পর্যায় শেষ হওয়ার পরই যে পরবর্তীটি শুরু হতে হবে এমন কোনো কথা নেই; এরিকসনের মতে, এই পর্যায়গুলো একে অপরের সাথে সমাপতিত (Overlap) হতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট পর্যায়ে ব্যক্তি যদি কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা বা সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হন, তবে সেই সমস্যাটি জীবনের পরবর্তী পর্যায়গুলোতেও বয়ে চলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, শৈশবের কোনো নির্দিষ্ট ধাপে যদি কোনো শিশু লজ্জা ও আত্ম-সংশয়ের অনুভূতি কাটিয়ে উঠতে না পারে, তবে পরবর্তী ধাপগুলোতেও তার বিকাশের ওপর এই আবেগগুলোর প্রভাব থেকে যেতে পারে এমনকি জীবনের পরবর্তী পর্যায়গুলোতেও এর প্রতিফলন ঘটে।

 

এরিকসনের তত্ত্বের ত্রুটি

মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এরিক এরিকসনের তত্ত্বটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, অন্যান্য তত্ত্বের মতোই এটি সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও গবেষকগণ এই তত্ত্বের কিছু সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটি তুলে ধরেছেন। যথা-

  1. এই মনোসামাজিক (Psychosocial) তত্ত্বের একটি বড় দুর্বলতা হল, এতে দ্বন্দ্ব নিরসন এবং এক পর্যায় থেকে পরবর্তী পর্যায়ে উত্তরণের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা বা ব্যাখ্যা করা হয়নি। প্রতিটি পর্যায়ে দ্বন্দ্ব সফলভাবে মিটিয়ে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ঠিক কী ধরনের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন, তার কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা এই তত্ত্বে পাওয়া যায় না।
  2. এরিকসনের তত্ত্বটি মূলত তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে; এতে কঠোর পরীক্ষাগারভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা অভিজ্ঞালব্ধ গবেষণার (Empirical research) ভিত্তি নেই। প্রতিটি পর্যায় অতিক্রম করার জন্য ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা এই তত্ত্বে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি; এমনকি কোনো পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা পরিমাপের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি বা পদ্ধতিও এতে দেওয়া হয়নি।
  3. এরিকসনের মতে, জীবনের প্রতিটি স্তরেই মানুষ একটি নির্দিষ্ট দ্বন্দ্ব বা সংকটের (যেমন- বিশ্বাস বনাম অবিশ্বাস) মুখোমুখি হয়। তবে, কোনো ব্যক্তি কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সংকটগুলোর সমাধান করতে পারেন, সে বিষয়ে এই তত্ত্বে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা বা সমাধান দেওয়া হয়নি।
  4. এরিকসন তাঁর তত্ত্বটি মূলত পশ্চিমা সমাজ ও সংস্কৃতির মানুষদের ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করেছিলেন। যেহেতু বিশ্বজুড়ে সামাজিক ব্যবস্থা, পারিবারিক কাঠামো এবং সাংস্কৃতিক রীতিনীতির ভিন্নতা রয়েছে, তাই এই আটটি পর্যায় অনুন্নত দেশ বা প্রাচ্যের সমাজের মানুষের ক্ষেত্রে হুবহু প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
  5. অনেক সমালোচক (যেমন- মনোবিজ্ঞানী Carol Gilligan) মনে করেন যে, এরিকসনের তত্ত্বে পুরুষদের জীবন অভিজ্ঞতার ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নারীদের আত্মপরিচয় গঠন এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার সক্ষমতা অর্জনের প্রক্রিয়া পুরুষদের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে যে সূক্ষ্ম বিষয়গুলো এই তত্ত্বে পুরোপুরি উঠে আসেনি।

 

এরিকসনের তত্ত্বের শিক্ষাগত তাৎপর্য

শ্রেণিকক্ষে এরিকসনের তত্ত্বটি সফলভাবে প্রয়োগ করার জন্য একজন শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের বয়সভিত্তিক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক চাহিদা এবং দ্বন্দ্বগুলো বুঝতে হবে এবং সেই অনুযায়ী উপযুক্ত শিখন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের উচিত ছোটখাটো ভুল উপেক্ষা করে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ ও স্বাধীন মনোভাবকে উৎসাহিত করা; প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ছোট-বড় ​​যেকোনো অর্জনের জন্য তাদের পুরস্কৃত করে কর্মস্পৃহা ও সক্ষমতার বোধ জাগিয়ে তোলা এবং হীনম্মন্যতা সৃষ্টি করতে পারে এমন ক্ষতিকর তুলনা এড়িয়ে চলা; এবং উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরের যে কিশোর-কিশোরীরা আত্মপরিচয় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব পোষণ করা ও সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম এবং পেশাগত পরামর্শদানের (Career counseling) মাধ্যমে তাদের জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও নিজস্ব সত্তার সুদৃঢ় বোধ গঠনে সহায়তা করা। পরিশেষে বলা যায়, এই তত্ত্বের মূল প্রয়োগ নিহিত রয়েছে শ্রেণিকক্ষকে ভয়ের পরিবেশ থেকে একটি ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক পরিবেশে রূপান্তর করার মধ্যে।

 

এরিকসনের তত্ত্বের প্রাসঙ্গিকতা

জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে যেমন অবসরের সময়েও এরিকসনের মডেলটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক; কারণ প্রাপ্তবয়স্করা প্রায়শই এমন সব সংকটের মুখোমুখি হন যা শৈশব ও কৈশোরে তাঁদের অভিজ্ঞতার অনুরূপ। বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং অতীতের মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়ার মাধ্যমে, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অবসর-পরবর্তী জীবনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি লাভ করতে পারেন। অবসরের সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় ব্যক্তিরা প্রায়শই জীবনের শুরুর দিকের আত্ম-পরিচয় সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করেন। যদিও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হয়, তবুও অনুরূপ মানসিক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাওয়াটা আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং আজীবন চলমান মানসিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বোঝাপড়াকে আরও গভীর করে তুলতে পারে। জীবনের বড় কোনো পরিবর্তন বা গুরুত্বপূর্ণ বিকাশের ধাপ অতিক্রমকারী রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের জন্য এরিকসনের মনোসামাজিক বিকাশের পর্যায়গুলো একটি কার্যকর কাঠামো প্রদান করে। কাউন্সেলিং বা পরামর্শ প্রদানের সময় সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখা রোগীর আত্মসচেতনতা আরও বৃদ্ধি করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, নার্সরা এই মডেলটি ব্যবহার করে কিশোর-কিশোরীদের নিজেদের পরিচয় খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারেন অথবা বয়স্ক ব্যক্তিদের জীবনের উদ্দেশ্য ও আত্মতৃপ্তি (Integrity) খুঁজে পেতে দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। সাম্প্রতিক গবেষণায় সমগ্র জীবনজুড়ে এরিকসনের তত্ত্বের দীর্ঘস্থায়ী প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণিত হয়েছে; ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় মধ্যবয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের সৃজনশীলতার অনুভূতির সাথে তাঁদের জ্ঞানীয় স্বাস্থ্য (Cognitive health), মানসিক সহনশীলতা (Psychological resilience) এবং নির্বাহী কার্যক্ষমতার (Executive functioning) মধ্যে একটি পারস্পরিক সম্পর্ক চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

 

আরও পোস্ট পড়তে - এখানে ক্লিক করুন

 

 

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি
  1. Managal, S.K. Advanced Educational Psychology (2nd ed.). PHI Learning Private Limited, New Delhi.
  2. পাল, গোবিন্দ পদ., মিত্র, গঙ্গারাম। শিখনের মনোবিজ্ঞান। নব প্রকাশনী, কলকাতা।
  3. গুপ্ত, অশোক। শিক্ষা মনোবিজ্ঞান। সেন্ট্রাল লাইব্রেরী, কলকাতা।
  4. ঘোষ, সনৎ কুমার। শিখনে মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি। ক্লাসিক বুকস্, কলকাতা।
  5. ইসলাম, নূরুল। শিক্ষামনোবিদ্যার রূপরেখা। শ্রীধর প্রকাশনী, কলকাতা।

 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *