মূল্যায়নে কম্পিউটারের ব্যবহার | Use of Computers in Evaluation

মূল্যায়নে কম্পিউটারের ব্যবহার (Use of Computers in Evaluation) বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের নাম। গতানুগতিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বহু সমস্যাকে এক্ষেত্রে জয় করা গেছে। বর্তমানে প্রশ্ন তৈরি করা থেকে মূল্যায়ন সকল ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ভূমিকা অনস্বিকার্য।

 

ভূমিকা

আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার হল কম্পিউটার। বহুমুখী কার্য সম্পাদনের মাধ্যমে এটি মানুষকে সেবা প্রদান করে থাকে। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই কম্পিউটারের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। কাজের গতি, বিশুদ্ধতা, নির্ভুলতা ও নির্ভরশীলতার দিক থেকে কম্পিউটারের ক্ষমতা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ও অনেক উন্নত। তাই বিংশ শতকের শেষপ্রান্তে কম্পিউটার সর্বত্র স্থান দখল করে নিয়েছে। বিশেষত আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় এবং মূল্যায়নে কম্পিউটারের ভূমিকা অপরিসীম। 

 

মূল্যায়নে কম্পিউটারের ব্যবহার

আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির অন্যতম বাহন হল কম্পিউটার। শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার করা আজকাল প্রায় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ধরনের কার্যাবলি পরিচালনা করতে শিক্ষক, ছাত্র সকলকেই কম্পিউটারের সাহায্য নিতে হয়। কারণ শিক্ষার প্রতিটি স্তরে, প্রত্যেক কার্যক্রমে কম্পিউটার কোনো না কোনো ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মূল্যায়নের মত একটি জটিল, ধারাবাহিক ও বিপুল কর্মকাণ্ডে কম্পিউটার এখন প্রায় আশীর্বাদ স্বরূপ। মূল্যায়নের যে যে কাজে কম্পিউটারের ব্যবহার সম্ভব সেগুলি নিম্নে উল্লেখ করা হল-

  1. কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করার পদ্ধতিকে আনন্দদায়ক ও স্বতঃস্ফূর্ত করে তোলা যায় এবং শিক্ষাপ্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য অঙ্গ হল মূল্যায়ন। এবং মূল্যায়নেও কম্পিউটারের বহুল ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। মূল্যায়ন প্রক্রিয়া কোনো একটিমাত্র মডেল অনুসরণ করে করা হয় না কারণ এটি একটি বহুমুখী, বহুস্তর বিশিষ্ট জটিল প্রক্রিয়া। কম্পিউটারের সাহায্যে মূল্যায়নের মডেল অনুযায়ী পরিকল্পনা রচনা করে এই কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যায়। এবং এর সাথে মডেলগুলির ত্রুটি-বিচ্যুতি নির্ণয় এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার বিভিন্ন দিকগুলি চিহ্নিত করা যায়।
  2. শিক্ষার্থীরা যদি কম্পিউটারের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে তবে তা তাদের কাছে অধিক হৃদয়গ্রাহী হয়ে ওঠে। কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময়ে যেকোনো শিক্ষণীয় বিষয় সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। সেহেতু শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটারের প্রয়োগ শিক্ষাকে এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও বাস্তবমুখী করে তোলে। মূল্যায়নের হাতিয়ারগুলির মধ্যে বিভিন্ন অভীক্ষা, অন্তিম মূল্যায়নের প্রশ্নপত্র, ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রশ্নপত্র ইত্যাদি রচনা করা, ছাপানো, কপি করা ইত্যাদি প্রতিটি কাজেই কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়। কিছু কিছু অভীক্ষার সংরক্ষণে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার (Hardware) অপরিহার্য। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা অ্যাসাইনমেন্ট হাতে না লিখে কম্পোজ করতে পারে এবং এর শুরুর পৃষ্ঠাটিতে নানা ধরনের নকশা করে সৌন্দর্য বর্ধন করতে পারে, শ্রেণি উপস্থাপনার বিষয়টিকে প্রাণবন্ত করে তুলে ধরতে কম্পিউটারের সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় সংবলিত উৎস অংশবিশেষ আকারে অন্যদের দেখাতে পারে ইত্যাদি।
  3. শিক্ষামূলক যেকোনো গবেষণার কাজ পূর্বের তুলনায় এখন অনেক সহজ হয়েছে কম্পিউটারের কল্যাণে। বিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাজনীতি, কৃষি, চিকিৎসা, ভাষা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করার জন্য প্রতিটি দেশেই গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিস্তৃত তথ্য সবসময় এক জায়গায় পাওয়া যায় না। এ বিষয়ের সহজ সমাধান নিয়ে এসেছে কম্পিউটার। বর্তমানে বিষয়ের শিরোনামসহ প্রতিটি গবেষণামূলক প্রকাশনার সারসংক্ষেপ অল্প সময়েই অনুসন্ধান করা সম্ভব। এভাবে গবেষণার কাজকে স্বল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করতে কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এবং এসবের সাথে সাথে গবেষণাপত্র লিখন, মূল্যায়ন, এবং রচনা চুরি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।
  4. কম্পিউটারের মাধ্যমে যেকোনো শিক্ষার্থী যেকোনো জায়গায় শিক্ষা সম্পর্কিত কাজের উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করতে পারে। কম্পিউটারের মাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থী সহজেই অন্য কোনো শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা বিশ্বের কোনো অত্যাধুনিক লাইব্রেরির সঙ্গে অনায়াসে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। কম্পিউটার থেকে দ্রুত যেকোনো তথ্য পাওয়া সহজ। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্যও কম্পিউটার ব্যবহার করা যেতে পারে, যদিও এখনও পর্যন্ত সেরকম কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। কিন্তু যে সব ক্ষেত্রে শিক্ষণের উদ্দেশ্যে কম্পিউটার কাজে লাগানো হয়, মূল্যায়নের সময়ও তা একইভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
  5. বর্তমানকালে শিক্ষার্থীদের মাঝে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বিদেশ গমনের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এক্ষেত্রে কম্পিউটার বিশ্বস্ত এবং উপকারী বন্ধুর মতোই কাজ করে থাকে। এছাড়াও তথ্য সংরক্ষণ করার কাজেও সহায়তা করে। কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে যেকোনো শিক্ষা সম্পর্কিত তথ্য নিমিষেই সংগ্রহ করা যায় এবং নিরাপদে সংরক্ষণও করা যায়। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণে দিন দিন কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণের অভিনব পন্থা আবিষ্কৃত হওয়ায় এর উপযোগিতা ক্রমেই বেড়ে চলছে।

 

 

আরও পোস্ট পড়তে - এখানে ক্লিক করুন

 

 

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি
  1. সেন, মলয় কুমার। শিক্ষা প্রযুক্তিবিজ্ঞান। সোমা বুক এজেন্সি, কলকাতা।
  2. চেল, মদনমোহন এবং নাগ, শর্মিলা। প্রাসঙ্গিক শিক্ষা প্রযুক্তি বিজ্ঞান, প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স, কলকাতা।

 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *