পিঁয়াজের জ্ঞানমূলক বিকাশের তত্ত্ব | Piaget’s Theory of Cognitive Development

শিশুরা কীভাবে শেখে বা চিন্তা করে, তা নিয়ে মনোবিজ্ঞানের জগতে সবচেয়ে বৈপ্লবিক ধারণা হল (Piaget’s Theory of Cognitive Development) পিঁয়াজের জ্ঞানমূলক বিকাশের তত্ত্ব। সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী জ্যাঁ পিঁয়াজে (Jean Piaget) দেখিয়েছেন যে, শিশুরা কেবল বড়দের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ নয়, বরং তাদের জগত-কে দেখার এবং বোঝার পদ্ধতি একদম আলাদা।

মানব জীবনের বিকাশ যেমন বিভিন্ন স্তরে হয়, তেমনি বিভিন্ন দিক থেকেও হয় যেমন- দৈহিক, মানসিক, সামাজিক ইত্যাদি। এমনই একটি মানব জীবনের বিকাশের তত্ত্ব হল জ্ঞানমূলক বিকাশ। জ্ঞানমূলক বা প্রজ্ঞামূলক বিকাশ (Cognitive Development)-এর ক্ষেত্রে Jean Piaget-এর প্রজ্ঞামূলক বিকাশের তত্ত্বটি আলোচিত হয়েছে।

জন্মের পর থেকে শিশুর মধ্যে চিন্তন, স্মরণ, কল্পনা, ধারণা, সমস্যা-সমাধান, সংবেদন, প্রত্যক্ষণ ইত্যাদি মানসিক প্রক্রিয়াগুলি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে, এইসব প্রক্রিয়াকে বলা হয় মানসিক বিকাশ। আবার অনেক মনোবিদ এঁকে বৌদ্ধিক বিকাশও বলে থাকেন। তবে আধুনিককালে মনোবিদগণ একে জ্ঞানমূলক বিকাশ বলে থাকেন। কারণ, এই সকল ক্ষমতার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে থাকি। এখানে জ্ঞান বা Cognition হল মনের সেই ক্ষমতা যার দ্বারা মানুষ পরিবেশের সবকিছু সম্পর্কে জানতে সক্ষম হয়। আর এই পরিবেশ সম্পর্কে জানতে যে সকল মানসিক প্রক্রিয়া তাকে সাহায্য করে তাকে বলা হয় জ্ঞানমূলক প্রক্রিয়া। সুতরাং, শিশুর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার জানার দক্ষতার যে পরিবর্তন হয় তাকে বলা হয় জ্ঞানমূলক বিকাশ।

 

পিঁয়াজের তত্ত্বের জৈবিক ভিত্তি

পিঁয়াজে তার প্রজ্ঞামূলক তথ্যটিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কয়েকটি ধারণার উল্লেখ করেছেন। এগুলি হল-

স্কিমা

স্কিমার ধারণাটি উদ্ভাবক হলেন মনোবিজ্ঞানী বার্টলেট (Burtlett)। স্কিমা (Schema) হল কোনো মুহূর্তে অর্জিত তথ্য সমূহের একক সংগঠন। পরবর্তীকালে শিশু যখন নতুন তথ্য আহরণ করে তখন তার স্কিমা সম্প্রসারিত হতে থাকে। এইভাবে সারা জীবনব্যাপী ব্যক্তির স্কিমা সম্প্রসারিত হয়ে থাকে। স্কিমা সম্প্রসারণের দুটি সক্রিয় প্রক্রিয়া হল- অভিযোজন এবং সংগঠনীকরণ। স্কিমা হল প্রজ্ঞার মানসিক প্রতিরূপ। শিশু জন্মের পর থেকে যত বয়স বাড়ে তত বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় ফলে তার অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে অর্থাৎ সমগ্র জীবনব্যাপী ব্যক্তির কিমা সম্প্রসারিত হতে থাকে।

অভিযোজন

ব্যক্তির পরিবেশের বিভিন্ন অবস্থার সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই হল অভিযোজন। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিযোজন ক্ষমতা পরিবর্তিত হয়। অভিযোজন এর দুটি প্রক্রিয়া হল- আত্তীকরণ এবং সহযোজন।

  1. আত্তীকরণ  : আত্তীকরণ এর অর্থ হল নতুন চিন্তা ভাবনা পুরাতন স্কিমার মধ্যে স্থান দেওয়ার প্রক্রিয়া। যার ফলে ‘স্কিমা’ পরিবর্তন তথা সম্প্রসারিত হয়। আত্তীকরণ প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে আমরা পরিবেশ পরিস্থিতিকে বোঝার চেষ্টা করি। যার ফলে পরিবেশের সাথে আমাদের অভিযোজন ঘটে।
  2. সহযোজন  : সহযোজন হল এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে পুরানো স্কিমার সাথে নতুন শিক্ষার সংযুক্তি দিতে না পারলে শিশুর মধ্যে ভারসাম্যতার অভাব দেখা যায়। নতুন তথ্য, চিন্তা-ভাবনা ইত্যাদি প্রয়োজন মত পরিবর্তন করে স্কিমার মধ্যে যুক্ত করা হল সহযোজন। যেমন- কঠিন কোনো ধারণা যদি বুঝতে অসুবিধা হয় সহজ উদাহরণের সাহায্যে তা বুঝিয়ে দেওয়া। এই ধরনের প্রক্রিয়ায় মানুষের ‘নতুন স্কিমা’ তৈরি হয় এবং ‘পুরানো স্কিমার’ পরিবর্তন হয়। একটি শিশু চিড়িয়াখানায় গিয়ে নতুন নতুন প্রাণী সম্পর্কে ধারণা আয়ত্ত করল যার ফলে তার স্কিমার পরিবর্তন হল এই পরিবর্তন হল সহযোজন। অর্থাৎ, সহযোজনের ফলে স্কিমা আকৃতিগতভাবে পরিবর্তন হয় এবং নতুন স্কিমা তৈরি হয়।
সাংগঠনিকরণ

প্রজ্ঞামূলক সংগঠনগুলি একসঙ্গে একত্রিত হয়ে এক জটিল চিন্তামূলক কাজের জন্ম দেয়, একে সাংগঠনিকরণ বলে। যেমন- একটি শিশুকে কোনো বিষয়ের রচনা লিখতে বলা হলে তাকে প্রথমে চিন্তা করতে হবে সেই বিষয় সম্পর্কে, তারপর খাতায় সেই সম্পর্কে যথাযথ ভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

 

জ্ঞানমূলক বিকাশের স্তরসমূহ

    1. সংবেদন সঞ্চালনমূলক স্তর (Sensory motor stage)- 0-2 বছর;
    2. প্রাক্-সক্রিয়তার স্তর (Pre-operational Stage )- 2-7 বছর;
    3. মূর্ত সক্রিয়তার স্তর (Concrete operational stage)- 7-11 বছর;
    4. যৌক্তিক সক্রিয়তার স্তর (Formal operational stage)- 11-18 বছর।
সংবেদন সঞ্চালনমূলক স্তর

এই স্তরে শিশু তার পারিপার্শ্বিক জগতকে সংবেদন ও সঞ্চালনমূলক ক্ষমতার দ্বারা জানতে চায়। এই স্তরে শিশুর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সংবেদন সঞ্চালনমূলক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। যেমন- আঁকড়ে ধরা, চোষা ইত্যাদি।

সংবেদন সঞ্চালনমূলক স্তরের বৈশিষ্ট্য

এই স্তরের বৈশিষ্ট্যগুলি হল-

  • আত্মকেন্দ্রিকতা : এই স্তরে শিশু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে, অন্যের অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকে না।
  • বস্তুর স্থায়িত্ব : এই স্তরে শিশুর বস্তুর স্থায়িত্ব বোধ থাকে না। যে বস্তু তার সামনে নেই সে বস্তুর কোনো অস্তিত্বও তার কাছে নেই।
  • কল্পনার ছলে খেলা : এই স্তরে শিশুরা বিভিন্ন ধরনের কল্পনা করে এবং সেই অনুযায়ী খেলে।
প্রাক্-সক্রিয়তার স্তর

এই স্তরটির সময়কাল হল ২ থেকে ৭ বছর। জ্ঞানমূলক বিকাশের প্রাথমিক স্তরে প্রত্যক্ষণ ও সঞ্চালন ক্রিয়ার মাধ্যমে যে ধারণা সংঘটিত হয় তার মানসিক প্রতিরোধ পরবর্তী পর্যায়ে বিকাশের ভিত্তিরূপে কাজ করে। এই স্তরে শিশু কোনো বস্তু সম্পর্কে জানতে সক্রিয় হয়, যার ফলে তার মধ্যে চিন্তা শক্তি বৃদ্ধি পায় কিন্তু, সামগ্রিক চিন্তন ক্ষমতা গড়ে ওঠে না। যেহেতু এটি বস্তু সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা গঠনের পূর্ববর্তী স্তর তাই একে প্রাক্-সক্রিয়তার স্তর বলা হয়ে থাকে।

প্রাক্-সক্রিয়তার স্তরের বৈশিষ্ট্য

এই স্তরের বৈশিষ্ট্যগুলি হল-

  • সর্বপ্রাণ বাদ : এই স্তরে শিশু জীব ও জড়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনা অর্থাৎ, পৃথিবীর সব বস্তুর মধ্যে প্রাণ আছে বলে মনে করে। এই স্তরের শেষের দিকে শিশুরা ধীরে ধীরে সামাজিকভাবে অন্যদের সাথে মেলামেশা করে।
  • বিপরীত চিন্তায় অক্ষমতা : এই স্তরে শিশুদের চিন্তায় একমুখীতা পরিলক্ষিত হয় অর্থাৎ, কে ছোট কে বড় এটা বোঝার ক্ষমতা তাদের মধ্যে আসে না।
  • একমুখী চিন্তন : এই স্তরে শিশুরা কোনো বিষয় বা ঘটনাকে কেবলমাত্র একদিক থেকেই চিন্তা করতে পারে।
  • রূপক অভিনয় : এই স্তরে শিশুরা বিভিন্ন ভান করতে পারে। যেমন- ঘুমিয়ে পড়ার ভান, কান্নার ভান ইত্যাদি।
  • ভাষা প্রয়োগ : এই স্তরে শিশুরা ভাষার মাধ্যমে তাদের বক্তব্য প্রকাশ করতে পারে। সে যা কিছু ভাবে সেটিকেই ভাষায় প্রকাশ করতে পারে।
  • বিলম্বিত অনুকরণ : প্রাক্-সক্রিয়তা স্তরে শিক্ষার্থীরা পূর্বে প্রত্যক্ষ করা কোনো কাজকে অনুকরণ করতে পারে। যেমন- কুকুরকে দেখে ঘেউ ঘেউ করা।
  • কৃত্রিমতাবোধ : পৃথিবীর সবকিছুই মানুষ তৈরি করেছে এই বোধ থেকে বাস্তবকে বিচার করার প্রবণতাকে কৃত্রিমতা বোধ বলা হয়। তবে এই স্তরের শেষের দিকে এই কৃত্রিমতাবোধ সম্পর্কেও ধারণা কিছুটা পরিবর্তিত হয়।
মূর্ত সক্রিয়তার স্তর

এই স্তরটির বিস্তৃতি ৭ থেকে ১১ বছর বয়স পর্যন্ত। এই স্তরে সক্রিয়তা বলতে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে যৌক্তিক সক্রিয়তা বা নীতি প্রয়োগ করাকেই বোঝায়। শিশু এই স্তরে যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। এই পর্যায়ে অর্জিত ধারণাগুলি বাস্তব এবং বস্তুগত অভিজ্ঞতাভিত্তিক হওয়ায় নাম দেওয়া হয়েছে মূর্ত সক্রিয়তার স্তর। অর্থাৎ, শিশুর চিন্তাধারা মূর্ত বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

মূর্ত সক্রিয়তার স্তরের বৈশিষ্ট্য

এই স্তরের বৈশিষ্ট্যগুলি হল-

  • সংখ্যার ধারণা : এই স্তরে শিশুদের সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান সম্পর্কে ধারণা গঠিত হয়।
  • সংরক্ষণ : কোনো বস্তুর বাহ্যিক পরিবর্তন হলেও মূল বস্তুটির কোনো পরিবর্তন হয় না এই বোধকেই সংরক্ষণ বোধ বলা হয়।
  • ক্রমপর্যায়ের ধারণা : ক্রমপর্যায় হল বস্তুর আকার বৃদ্ধি বা হ্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে বিন্যাস করা। এই স্তরে শিশুরা বড় থেকে ছোট কিংবা ছোট থেকে বড় আকারে সাজাতে পারে।
  • শ্রেণীকরণ : এই স্তরে শিশুরা বিভিন্ন বস্তুর শ্রেণীবিভাজন করতে পারে এবং বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে সমতা রক্ষাও করতে পারে। যেমন- একটি ঝুড়িতে বিভিন্ন রং-এর বল রাখা থাকলে সেগুলোকে আলাদা করতে বললে তা রং অনুযায়ী আলাদা করতে পারে।
যৌক্তিক সক্রিয়তার স্তর

এই স্তরটির বিন্যাস ১১ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত। পিঁয়াজের মতে ১২ বছরের পর থেকে শিশুরা যুক্তিপূর্ণ চিন্তন করতে শুরু করে। এই বয়সে ছেলেমেয়েরা পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির মতো চিন্তা করতে থাকে। যুক্তিগুলো মূর্ত সক্রিয়তা ছেড়ে বিমূর্ত চিন্তনে প্রবেশ করে। এই প্রকার চিন্তনকে অনেক সময় Hypothetical thinking বলে।

যৌক্তিক সক্রিয়তার স্তরের বৈশিষ্ট্য

এই স্তরের বৈশিষ্ট্যগুলি হল-

  • বিমূর্ত চিন্তন : যে বস্তু বা বিষয় সামনে নেই সেই সম্পর্কেও যুক্তিপূর্ণ চিন্তন করতে পারে।
  • অবরোহী চিন্তন : অবরোহী চিন্তন হল সাধারন নিয়ম বা নীতি থেকে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষমতা।
  • INRC group : সাদৃশ্য (identity), নঞ্চর্থক (negativity), বিনিময় (reciprocity), সহগতি (correlativity) এই উন্নত চিন্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে।
  • সমস্যা সমাধানমূলক ক্ষমতা : এই স্তরে শিক্ষার্থীরা যুক্তিপূর্ণ চিন্তনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করে থাকে।

 

পিঁয়াজের তত্ত্বের শিক্ষামূলক গুরুত্ব

শিক্ষাক্ষেত্রে পিঁয়াজের তত্ত্বের গুরুত্ব হল-

  1. শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পার্থক্য পরিকল্পনা করতে এই তত্ত্বের গুরুত্ব অপরিসীম।
  2. শিক্ষার্থীর প্রজ্ঞামূলক বিকাশের জন্য মানসিক ভারসাম্যতা জরুরি, তা সৃষ্টি করার জন্য শিক্ষককে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। এবং শিক্ষককে শিক্ষার্থীর পূর্বজ্ঞান সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
  3. সংবেদন সঞ্চালনমূলক স্তরে শিশুর জ্ঞান হয় বিভিন্ন বস্তুর আকার, আকৃতি, বর্ণ ইত্যাদি সম্পর্কে তাই শিশুর কাছে বিভিন্ন আকৃতির বস্তু ও খেলনা দিতে হবে যাতে তাদের রঙ, আকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। এই সময় বিভিন্ন খেলনা নিয়ে খেলার সময় শিশু তা মুখে দেবে, স্পর্শ করবে, ছুঁড়ে ফেলবে ইত্যাদির প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তার সংবেদন সঞ্চালনমূলক ক্ষমতার বিকাশ ঘটে। শিশুর বিভিন্ন ইন্দ্রিয়কে কাজে লাগিয়ে অঙ্গ-সঞ্চালনের মাধ্যমে প্রজ্ঞামূলক বিকাশ ঘটানো এই স্তরের শিক্ষাগত তাৎপর্য।
  4. প্রাক্-সক্রিয়তার স্তরে শিশুকে পর্যবেক্ষণ ও বস্তুর উপযুক্ত ব্যবহার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করতে হবে এবং এক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষিকাকে যথেষ্ট উদ্যোগী হতে হবে। 
  5. মূর্ত সক্রিয়তার স্তরে ছেলেমেয়েরা মূর্ত পরিবেশের সাথে প্রতিক্রিয়া করে। এর মাধ্যমেই তাদের প্রজ্ঞার বিকাশ হয়। কিন্তু বিমূর্ত পরিবেশের চিন্তনের প্রতিক্রিয়ায় তারা অক্ষম। তাই এই স্তরে শিক্ষার্থীদের প্রজ্ঞার বিকাশে সাহায্য করবার জন্য বাস্তব এবং মূর্ত বিষয়বস্তুর সাথে তাদের চিন্তা ধারাকে যুক্ত করতে হবে।
  6. যৌক্তিক সক্রিয়তার স্তরে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা নিজেদের বোধ এবং সক্রিয়তা নিয়ে খুশি থাকে শিক্ষককে এই ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন হয় এবং শিক্ষার্থীদের কাজকে বাস্তবধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে শিক্ষক সহায়তা করবেন যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়।
  7. যৌক্তিক সক্রিয়তার স্তরে শিক্ষক বিভিন্ন চিন্তামূলক প্রশ্ন করে শিক্ষার্থীদের চিন্তন ক্ষমতা বিকাশে অবশ্যই সাহায্য করবেন এবং বিভিন্ন সমস্যা উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমস্যা সমাধানমূলক ক্ষমতার বিকাশ ঘটাবেন।

 

পিঁয়াজের তত্ত্বের ত্রুটি

  1. পিঁয়াজের তাঁর তত্ত্বে, একজন শিশুর বস্তু স্থায়িত্বের ক্ষমতা অর্জনের যে বয়সের উল্লেখ করেছেন, তার চেয়েও কম বয়সেই ছোট শিশুরা প্রায়শই বস্তু স্থায়িত্ব বা অন্যের দৃষ্টিকোণ বোঝার মতো জ্ঞানীয় সক্ষমতা অর্জন করে থাকে।
  2. পিঁয়াজের তত্ত্বের পরীক্ষাগুলো মাঝে মাঝে জটিল বা বিভ্রান্তিকর ছিল; সহজতর কাজ দিয়ে পরীক্ষা করার সময় শিশুরা উচ্চতর দক্ষতা প্রদর্শন করেছিল।
  3. সমালোচকরা যুক্তি দেন যে, জ্ঞানমূলক বিকাশ আরও অবিচ্ছিন্ন এবং শিশুরা নির্দিষ্ট কিছু কাজে উচ্চতর পর্যায়ের দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারে, আবার অন্য কাজে নিম্ন-স্তরের কাজে সংগ্রাম করতে পারে, যা জ্ঞানীয় বিকাশে অসামঞ্জস্যতা প্রদর্শন করে।
  4. পিঁয়াজের জ্ঞানমূলক বিকাশের তত্ত্ব সংস্কৃতি, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং ভাষার প্রভাবের উপর খুব কম জোর দেয়।
  5. যদিও পিঁয়াজে তাঁর তত্ত্বে প্রতিটি পর্যায়ে কী কী জ্ঞানীয় আচরণ ঘটে তার বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও সমালোচকদের মতে, শিশুরা কীভাবে এক পর্যায় থেকে পরবর্তী পর্যায়ে যায় তার ব্যাখ্যা তিনি পুরোপুরি দেননি।

উপরোক্ত নানান ত্রুটি বা সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও, পিঁয়াজে তাঁর জ্ঞানমূলক বিকাশের তত্ত্বের মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষাতত্ত্বে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রবর্তন করেছেন।

 

 

আরও পোস্ট পড়তে - এখানে ক্লিক করুন

 

 

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি
  1. ইসলাম, নূরুল। শিক্ষামনোবিদ্যার রূপরেখা। শ্রীধর প্রকাশনী, কলকাতা।
  2. ঘোষ, সনৎ কুমার। শিখনে মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি। ক্লাসিক বুকস্, কলকাতা।
  3. পাল, গোবিন্দ পদ এবং মিত্র, গঙ্গারাম। শিখনের মনোবিজ্ঞান। নব প্রকাশনী, কলকাতা।
  4. Aggarwal, J.C. Essentials of Educational Psychology (2nd Ed.). Vikas Publishing House PVT LTD., New Delhi.
  5. চক্রবর্তী, প্রণব কুমার এবং ব্যানার্জী, দেবশ্রী। শিক্ষার মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি। রীতা পাবলিকেশন, কলকাতা।
  6. পাল, দেবাশিস। শিক্ষার মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি। রীতা পাবলিকেশন, কলকাতা।

 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *