সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনা | Review of Related Literature

সংশ্লিষ্ট সাহিত্যের পর্যালোচনা (Review of Related Literature) বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। যেকোনো গবেষণার বহুমুখী দিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী গবেষণা অত্যন্ত গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে। সময়ের সাথে সাথে গবেষকরা বিভিন্ন পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করে এই বিষয়টি মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছেন। বিদ্যমান সাহিত্য নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, অধিকাংশ গবেষণায় মূলত এর প্রাথমিক প্রভাবগুলোর ওপরই আলোকপাত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনা হল সেইসব তত্ত্ব এবং পূর্ববর্তী গবেষণা চিহ্নিত করার জায়গা যেখানে একজন গবেষক গবেষণার বিষয়বস্তু ও পদ্ধতি সম্বন্ধে নিজ পছন্দকে প্রাধান্য দেন।

 

সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনার অর্থ

একটি গবেষণার তাত্ত্বিক কাঠামো ও যৌক্তিকতা প্রদানের জন্য সাহিত্য পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনার মাধ্যমে গবেষক যে বিষয়ের উপর গবেষণা করছেন সে সম্পর্কে নতুনত্ব এবং আরও উৎকৃষ্ট বিষয়বস্তুর সংযোজনে সক্ষম হন। সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনা কোনো বিষয়ের উপর গবেষকের জ্ঞান কতটুকু গভীর তা পাঠকের কাছে তুলে ধরে এবং গবেষণাটি বর্তমান জ্ঞানের ক্ষেত্রে কোথায় কতটুকু অবদান রাখবে সে ব্যাপারে ইঙ্গিত প্রদান করে।

সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনা বলতে কোনো গবেষণাপত্রের নিছক সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করাকে বোঝায় না। সার-সংক্ষেপ সাহিত্য পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, তবে সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনা সার-সংক্ষেপকরণের থেকেও অনেক বেশি কিছু।

 

সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনার সংজ্ঞা

সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনা সম্পর্কিত কয়েকটি সংজ্ঞা নিম্নে তুলে ধরা হল-

জর্জ জে. মৌলি (George J. Mouly)-এর মতে, “The review of the literature is an exacting task, calling for a deep insight and clear perspective of the overall field.” অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনা একটি সঠিক পদক্ষেপ, যা সামগ্রিক ক্ষেত্র সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি এবং স্পষ্ট ধারণা প্রদান করে।

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (APA, 2010) অনুসারে, “Authors of literature review evaluate a body of literature by identifying relations, contradictions, gaps, and inconsistencies in the literature and by suggesting the next step needed to solve the research problem.” অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনায় গবেষকগণ সাহিত্যের সম্পর্ক, দ্বন্দ্ব, শূন্যতা এবং অসংগতিগুলি চিহ্নিত করেন এবং গবেষণার সমস্যা সমাধানের জন্য পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়ে সাহিত্যের একটি অংশকে মূল্যায়ন করেন।

According to David, Paul & Justin (2011), “A first step in the research process is the review of related studies, which helps to shape your research question. A review of related studies requires the author to identify, critically analyze and synthesize a set of useful articles and books on a particular topic. Often associated as a section within a dissertation, a review of related studies is characterized by the emphasis on sources, which are organized, summarized and synthesized with the goal of providing a new interpretation of old material or a trace of the intellectual progression of the field.”

 

সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনার উদ্দেশ্য

সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনার উদ্দেশ্যগুলি নিম্নে উল্লেখ করা হল-

  1. সাহিত্য পর্যালোচনা গবেষণা সমস্যার পটভূমি সম্পর্কিত তথ্য এবং প্রেক্ষাপট প্রদান করে। অর্থাৎ গবেষণার প্রকোপ, প্রভাব ও ব্যাপকতার সার্বিক ধারণা প্রদান করে। 
  2. সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনার অধ্যয়ন গবেষককে তার গবেষণা কাজের উল্লেখযোগ্য সংশোধনের দিকে পরিচালিত করে।
  3. প্রাপ্ত তথ্যের প্রমাণীকরণের মাধ্যমে সময় এবং শক্তি সাশ্রয় করা সম্ভব।
  4. উপযুক্ত অনুসিদ্ধান্ত গঠনের প্রয়োজনীয় তাত্ত্বিক ভিত্তি প্রদান করে।
  5. গবেষক সংশ্লিষ্ট সাহিত্যের ত্রুটিগুলি জানতে পারেন।

 

সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনার উৎস

সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনার উৎসগুলির মধ্যে নিম্নলিখিতগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:

  1. পুস্তক, বিশ্বকোষ, পঞ্জিকা এবং অন্যান্য অনুরূপ তথ্যসূত্র।
  2. পেশাদার জার্নাল, ম্যাগাজিন, সাময়িকী, সংবাদপত্র এবং অন্যান্য প্রকাশনায় প্রকাশিত প্রবন্ধসমূহ।
  3. পাণ্ডুলিপি, মনোগ্রাফ, স্মৃতিকথা, বক্তৃতা, চিঠি এবং ডায়েরি।
  4. অপ্রকাশিত থিসিস এবং গবেষণাপত্র।
  5. দেশের সংবিধান, আইন ও বিধি।
  6. সরকারি অফিস এবং বিভাগ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন বুলেটিন, সার্কুলার এবং আদেশ।

 

সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা

নিম্নে গবেষণায় সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার দিকগুলি তুলে ধরা হল- 

  1. গবেষণা সমস্যার ধারণা সংগঠনে, গবেষণা সংশ্লিষ্ট চলকগুলিকে সঠিকভাবে শনাক্তকরণে ও কার্যকরী সংজ্ঞা প্রদানে গবেষককে সহায়তা করে।
  2. গবেষককে বুদ্ধিদীপ্ত কাজের কনটেক্সট প্রদান করে, যাতে সে অন্যদের কাজের মধ্যে নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে পারে।
  3. সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনায় প্রচলিত তত্ত্ব এবং ধারণাকে নতুন জ্ঞানের আলোকে পুনঃ-প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
  4. যেকোনো গবেষণার তত্ত্বগত ভিত্তি তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনা করা একান্ত আবশ্যক।
  5. কোনো সমস্যার উপর গবেষণা করার যৌক্তিকতা প্রদান করে।

 

 

আরও পোস্ট পড়তে - এখানে ক্লিক করুন

 

 

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি
  1. Kothari, C.R. Research Methodology: Methods and Techniques. New Age International Publishers, New Delhi.
  2. Koul, Lokesh. Methodology of Educational Research. Vikas Publishing House PVT LTD, New Delhi.
  3. Mangal, S.K., Mangal, Subhra. Research Methodology in Behavioural Sciences. PHI Learning Private Limited, New Delhi.
  4. Taylor, B., Sinha, G., Ghosal, T. Research Methodology. PHI Learning Private Limited, New Delhi.
  5. Best, J.W., Kahn J.V. Research in Education. PHI Learning Private Limited, New Delhi.

 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *