অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা | Reliability of a Test

অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা (Reliability of a Test) হল যেকোনো আদর্শায়িত অভীক্ষার একটি অপরিহার্য স্তম্ভ। একটি অভীক্ষা কতটা নির্ভুল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ ফলাফল দিতে সক্ষম, তার গাণিতিক ও যৌক্তিক প্রমাণই হল নির্ভরযোগ্যতা (Reliability)।
নির্ভরযোগ্যতার অর্থ
আমরা সেই মানুষের উপরই সাধারণত নির্ভর করতে পারি যে কথায় ও কাজে বিশ্বাসযোগ্য। তাই সেই ব্যক্তিই বিশ্বাসযোগ্য বা নির্ভরযোগ্য যে একটি বিষয়ে সব সময়ই একই ধরনের আচরণ করে। একটি লোককে কোনো কাজের দায়িত্ব দিলে সে যদি বিশ্বস্ততার সাথে তা পালন করে তবেই তাকে নির্ভরযোগ্য বা বিশ্বাসযোগ্য বলা যাবে। তেমনি ব্যক্তির যে গুণ বা বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করার জন্য কোনো অভীক্ষা তৈরি করা হয় তা যদি ঐ অভীক্ষার সাহায্যে নিখুঁত বা সংগতিপূর্ণভাবে পরিমাপ করা যায় তবেই অভীক্ষাটি নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। সাধারণত একটি অভীক্ষা একই দলের উপর কিছুদিনের ব্যবধানে দুইবার প্রয়োগ করে যদি একই ফলাফল পাওয়া যায় বা দুটি ফলাফলের মধ্যে যদি খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে তা হলে বলা যাবে অভীক্ষাটি নির্ভরযোগ্য হয়েছে।
নির্ভরযোগ্যতার সংজ্ঞা
নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞাগুলি নিম্নে তুলে ধরা হল-
অ্যানাসটাসি (Anastasi)-এর মতে, “একই অভীক্ষা একই ব্যক্তির উপর বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রয়োগের ফলে অথবা সমতুল্য পদগুলির বিভিন্ন ধরনের বিন্যাসের ফলে যে নম্বরগুলি পাওয়া যায়, তাকে উক্ত অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা বলে।”
গ্যারেট (Garrett)-এর মতে, “The reliability of a test or any mental measuring instrument depends upon the consistency with which it gauges the ability to whom it is applied.”
উপরোক্ত সংজ্ঞাগুলি বিশ্লেষণে বলা যেতে পারে, কোনো অভীক্ষা কিছু দিনের ব্যবধানে দুইবার প্রয়োগ করে প্রতিবারই যদি একই বা কাছাকাছি ফল পাওয়া যায়, তবেই সেই অভীক্ষাটিকে নির্ভরযোগ্য বলে ধরে নেওয়া হবে।
অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা হ্রাসের কারণ
একটি অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা হ্রাসের কারণগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা- ক) অভীক্ষা নির্ভর কারণ, খ) পরীক্ষার্থী নির্ভর কারণ, গ) পরীক্ষক নির্ভর কারণ।
অভীক্ষা নির্ভর কারণ
অভীক্ষার দৈর্ঘ্য
অভীক্ষার দৈর্ঘ্য (প্রশ্নের সংখ্যা) যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি হয় তাহলে অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস পায়।
অসামঞ্জস্য অভীক্ষাপদ
অভীক্ষার প্রশ্নগুলো যদি খুব সহজ বা খুব কঠিন হয় তাহলে অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস পায়।
অভীক্ষাপদের বিক্ষিপ্ত বিন্যাস
অভীক্ষার পদগুলো বিক্ষিপ্তভাবে থাকলে, অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস পায়। কোনো শিক্ষার্থী প্রথমেই কোনো কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে সে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে এবং পরের জানা প্রশ্নের উত্তরও ভুল করে। এতে পরীক্ষার্থীর সঠিক বৈশিষ্ট্য বা গুণ পরিমাপ করা সম্ভব হয় না।
অনুমানযোগ্য অভীক্ষাপদ
প্রশ্নের ধরন যদি এমন হয় যে, অনুমানেও আংশিক উত্তর দেয়া যায় তাহলে অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস পায়।
উদ্দেশ্যহীন প্রশ্ন
অভীক্ষার মধ্যে যদি এমন প্রশ্ন সংযোজিত হয়, যা বিশেষ মানসিক বৈশিষ্ট্য বা শিক্ষাগতযোগ্যতা পরিমাপ না করে পরীক্ষার্থীর মনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
অভীক্ষাপদের পারস্পরিক সম্পর্ক
একই প্রশ্ন ভিন্ন আকারে অভীক্ষার মধ্যে সংযোজিত হলে অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস পায়।
ব্যক্তিগত প্রশ্ন
অভীক্ষার মধ্যে যদি ব্যক্তিগত প্রশ্ন থাকে যা পরীক্ষার্থীকে প্রাক্ষোভিক দিক থেকে বিচলিত করে তোলে তাহলে অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস পায়।
পরীক্ষার্থী নির্ভর কারণ
প্রস্তুতির অভাব
অভীক্ষা প্রয়োগের সময় পরীক্ষার্থীর যদি মানসিক প্রস্তুতি না থাকে তাহলে অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস পায়।
মানসিক অবস্থা
অভীক্ষা প্রয়োগকালে যদি পরীক্ষার্থীর মানসিক চঞ্চলতা থাকে, তাহলে অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস পায়।
নির্দেশ না বোঝা
প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার কৌশল ও প্রশ্নের নির্দেশ সম্পর্কে পরীক্ষার্থীর অজ্ঞতার কারণে অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস পায়।
দৈহিক অসুস্থতা
পরীক্ষার্থীর দৈহিক অসুস্থতা অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতাকে কমিয়ে দেয়।
অভীক্ষার প্রয়োগে ও পুনঃপ্রয়োগের সময়ের ব্যবধান
অভীক্ষার প্রয়োগে ও পুনঃপ্রয়োগের সময়ের মধ্যে ব্যবধান, সে সময়ে শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা কমিয়ে দেয়।
পরীক্ষক নির্ভর কারণ
ব্যক্তিগত কারণ
অনেক সময় পরীক্ষক তার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে উত্তরপত্র মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আরোপ করেন। এই ধরনের ব্যক্তিগত প্রভাব নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস করে।
অভিজ্ঞতার অভাব
অভীক্ষার প্রয়োগে ক্ষেত্রে পরীক্ষকের যথেষ্ট জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অভাব নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস করে।
পারস্পরিক সম্পর্কের অভাব
অভীক্ষা প্রয়োগের পূর্বে পরীক্ষক যথাযথভাবে পরীক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও মানসিক অবস্থা উপলব্ধি করতে না পারলে অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস পায়।
অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির উপায়
অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির উপায়গুলি হল-
অভীক্ষার দৈর্ঘ্যের প্রতি লক্ষ্য রাখা
অভীক্ষার দৈর্ঘ্য যেন খুব ছােট না হয়ে অতিমাত্রায় বড় হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
প্রশ্নের কাঠিন্যের মাত্রা নির্ণয়
প্রশ্ন প্রণয়নের পর একদল শিক্ষার্থীদের উপর প্রয়োগ করে প্রতিটি প্রশ্নের কাঠিন্যের মাত্রা নির্ণয় করে খুব সহজ ও খুব কঠিন প্রশ্ন বাদ দিয়ে সহজ থেকে কঠিনের দিকে সাজাতে হবে।
অনুমানে উত্তর প্রদান করা যায় এমন প্রশ্ন বাতিল
যে সকল প্রশ্নের উত্তর শিক্ষার্থীরা অনুমানের উপর নির্ভর করে দিতে পারবে তা বাতিল করতে হবে।
একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি না ঘটা
অভীক্ষায় ব্যবহৃত প্রশ্নগুলোর মধ্যে যেন পারস্পরিক সম্পর্ক না থাকে অথবা ভাষা বা গঠনের কারণে একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
পরীক্ষার্থীকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা
অভীক্ষা গ্রহণের পূর্বে পরীক্ষার্থীকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে নিতে হবে।
পরীক্ষার্থীর ধৈর্যচ্যুতি না ঘটা
অভীক্ষা চলমান সময়ে পরীক্ষার্থীর যেন ধৈর্যচ্যুতি না ঘটে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
উত্তর প্রদানের জন্য সঠিক নির্দেশনা
অভীক্ষার প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দিতে হবে তা যেন সকল পরীক্ষার্থী সঠিকভাবে বুঝতে পারে এমনভাবে নির্দেশনা দিতে হবে।
পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও আসন ব্যবস্থা
পরীক্ষা চলাকালীন পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও আসন ব্যবস্থার কারণে পরীক্ষার্থীর যেন অসুবিধা না হয়, সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
পরীক্ষকের নিরপেক্ষতা
পরীক্ষকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বা স্বজনপ্রীতির কারণে উত্তরপত্রে নম্বর প্রদান যেন প্রভাবিত না হয়।
উপযুক্ত পরীক্ষক নিয়োগে
উপযুক্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পরীক্ষককে উত্তরপত্র পরীক্ষণের দায়িত্ব দিতে হবে।
অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নির্ণয়ের পদ্ধতি
অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নির্ণয়ের সাধারণত চারটি পদ্ধতি রয়েছে। যা সম্বন্ধে নিম্নে আলোচনা করা হল-
পুনঃপরীক্ষা পদ্ধতি (Test-Retest Method)
যে অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নির্ণয় করা হবে সেই অভীক্ষাটি একদল পরীক্ষার্থীর উপর অল্পদিনের ব্যবধানে দুইবার প্রয়োগ করে, যে দুই গুচ্ছ স্কোর পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে সংগতি আছে কি না তা এই পদ্ধতিতে নির্ণয় করা হয়। গাণিতিক পদ্ধতিতে এই সংগতি নির্ণয় করা হয়।
সদৃশ বা সমান্তরাল অভীক্ষা পদ্ধতি (Parallel or Equivalent Forms Method)
এই পদ্ধতিতে একই সঙ্গে দুটি অভীক্ষা তৈরি করা হয়। অভীক্ষা দু’টিকে উদ্দেশ্য, প্রকৃতি, কাঠিন্য এবং বিন্যাসের দিক থেকে সদৃশ বা সমান্তরাল হতে হয়। সমান্তরাল অভীক্ষা দু’টি একই দলের উপর পর পর প্রয়োগ করা হয়। দুটি অভীক্ষা প্রয়োগের ফলে যে দুই গুচ্ছ স্কোর পাওয়া যায়, তাদের সহগতির সহগাঙ্ক নির্ণয় করা হয়। প্রাপ্ত মান সমান্তরাল দু’টি অভীক্ষারই নির্ভরযোগ্যতা প্রকাশ করে।
খণ্ডিতার্ধ পদ্ধতি (Split-Half Method)
এই পদ্ধতিতে নির্ভরযোগ্যতা নির্ণয়ের জন্য প্রথমে সমগ্ৰ অভীক্ষাটি অভীক্ষার্থীদের উপর প্রয়োগ করা হয়। পরে অভীক্ষাটির পদগুলোকে দুটি সমান ভাগে ভাগ করে নেয়া হয়। এই দু’টি ভাগকে দু’টি অভীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করে প্রত্যেকটি ভাগের জন্য পৃথক পৃথকভাবে মোট দু’টি স্কোরগুচ্ছ পাওয়া যায়। এই দু’টি স্কোরগুচ্ছের মধ্যে সহগতির মান নির্ণয় করা হয়। বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করে অভীক্ষাটিকে দুটি খণ্ডে বিভক্ত করা হয়। যেকোনো অভীক্ষায় অভীক্ষাপদগুলো কাঠিন্যের মানের ক্রমানুসারে সাজানো থাকে। তাই অভীক্ষার খণ্ড দু’টিকে সদৃশ করার জন্য প্রত্যেক অংশে একটি অন্তর একটি পদ গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ একখণ্ডে তাকে যুগ্মক্রমিক সংখ্যাযুক্ত পদগুলো এবং অপরটিতে থাকে অযুগ্মক্রমিক সংখ্যাযুক্ত পদগুলো। যদি একটি অভীক্ষায় ৩০টি পদ থাকে তবে এর একটি খণ্ডিত অংশে থাকবে ১ নং, ৩ নং, ৫নং…….ইত্যাদি এবং অপর খণ্ডটিতে থাকবে ২নং, ৪নং, ৬নং……ইত্যাদি পদগুলো। এভাবে দুখণ্ডের যে পৃথক পৃথক স্কোরগুচ্ছ পাওয়া যাবে, তাদের মধ্যে সহগতির সহগাঙ্ক নির্ণয় করলে যে নির্ভরযোগ্যতা সহগাঙ্ক পাওয়া যাবে তা হবে অভীক্ষার অর্ধাংশের নির্ভরযোগ্যতা।
যৌক্তিক সমতুল বা অভ্যন্তরীণ সংগতি পদ্ধতি (Rational Equivalence/Internal Consistency Method)
‘যৌক্তিক সমতা’ (Rational Equivalence) বা ‘অভ্যন্তরীণ সংগতি’ (Internal Consistency) পদ্ধতি হল অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা পরিমাপের একটি আধুনিক কৌশল; এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো অভীক্ষা কেবল একবারই প্রয়োগ করা হয়। এই পদ্ধতিতে, অভীক্ষার অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি পদের (items) পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সেগুলোর সামগ্রিক সংগতি বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্যতা নির্ণয় করা হয়। এই পদ্ধতিতে নির্ভরযোগ্যতা নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত দুটি প্রধান ও জনপ্রিয় সূত্র হল- কুডার-রিচার্ডসন সূত্রসমূহ (Kuder-Richardson Formulas- KR-20 & KR-21 ) এবং ক্রনব্যাক আলফা (Cronbach’s Alpha)।
অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা যেকোনো আদর্শায়িত বা মনস্তাত্ত্বিক অভীক্ষার একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। এটি ছাড়া যেকোনো মূল্যায়নের ফলাফল ভিত্তিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ বলে গণ্য হয়। সুতরাং, শিক্ষাগত ও মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তথ্য সংগ্রহ এবং ফলাফলের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের কোনো বিকল্প নেই।
আরও পোস্ট পড়তে - এখানে ক্লিক করুন
সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি- Singh, A.K. Tests, Measurement and Research Methods in Behavioural Science. Bharati Bhawan, New Delhi.
- Robert J. Gregory. Psychological Testing. Pearson Education.
- ইসলাম, ড. নূরুল। শিক্ষায় মূল্যায়ন ও নির্দেশনা। শ্রীধর প্রকাশনী, কলকাতা।
- আচার্য, অধ্যাপক পূর্ণেন্দু। শিক্ষাক্ষেত্রে মূল্যায়ন ও নির্দেশনা। শ্রীতারা প্রকাশনী।
- পাল, গোবিন্দ পদ., মিত্র, গঙ্গারাম। শিক্ষায় মূল্যায়ন। নব প্রকাশনী, কলকাতা।






