কোঠারি কমিশনের সুপারিশসমূহ (১৯৬৪-৬৬) | Recommendations of Kothari Commission (1964-66)

১৯৬৪ সালের ১৪ই জুলাই শিক্ষার সর্বস্তরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরামর্শদানের জন্য ভারতীয় শিক্ষা কমিশন বা (Recommendations of Kothari Commission 1964-66) কোঠারি কমিশন গঠন করা হয়। স্বাধীন ভারতে শিক্ষার ইতিহাসে এটি হল তৃতীয় শিক্ষা কমিশন।
ভূমিকা
স্বাধীনতার পর, ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ‘কোঠারি কমিশন’-ও একটি, যা ভারতীয় শিক্ষার মানকে আন্তর্জাতিক মানের সমকক্ষ করে তোলার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছিল। ১৯৬৪ সালের ১৪ই জুলাই, তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) চেয়ারম্যান দৌলত সিং কোঠারির সভাপতিত্বে ভারত সরকার এই কমিশনটি গঠন করে। এই কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল সারা দেশের শিক্ষা খাতের প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা। এই কমিশন গঠনের নেপথ্যে থাকা অন্যান্য উদ্দেশ্যের মধ্যে শিক্ষার একটি সাধারণ রূপরেখা বা কাঠামো প্রণয়ন করাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ডি.এস. কোঠারির সভাপতিত্বে গঠিত এই কমিশনটি ছিল স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতে গঠিত তৃতীয় কমিশন এবং শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে সুদূরপ্রসারী ও ব্যাপক কার্যপরিধি সম্পন্ন প্রথম কমিশন। ১৯৬৪ সালে গঠিত হয়ে দু’বছর ধরে কাজ করার পর কমিশন ‘শিক্ষা ও জাতীয় উন্নয়ন’ (Education and National development) শিরোনামে ৬৯২ পৃষ্ঠার একটি বৃহৎ বিবরণী ১৯৬৬ সালের জুন মাসে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পেশ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে প্রণীত ভারতের প্রথম ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’-তে এই কমিশনের সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
কমিশনের সদস্যবৃন্দ
এই কমিশনের ভারতীয় সদস্যরা হলেন- জে.পি. নায়েক (J.P. Naik), ড. কে.জি. সায়েদীন (Dr. K.G. Saiyidain), ডা. টি. সেন (Dr. T. Sen), মিস এস. পানান্ডিকার (Miss S. Panandikar), অধ্যাপক এম.ভি. মাথুর (Prof. M.V. Mathur), আর.এ. গোপালস্বামী (R.A. Gopalaswami) এছাড়া, বিভিন্ন দেশের যে সমস্ত শিক্ষাবিদ এই কমিশনের সদস্য ছিলেন তাঁরা হলেন- ইংল্যান্ডের অধ্যাপক এম.ভি. এলভিন (Prof. M.V. Elvin), ফান্সের জিন থমাস (Jean Thomas), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেে রজার রেভেল (Roger Revelle), সোভিয়েত রাশিয়ার এস.এ. শোমৌস্কি (S.A. Shomousky), জাপানের সাদাতোশি থোরা (Sadatoshi Thora), ইউনেস্কোর প্যারিস শাখার জে.এফ. ম্যাকডুগাল (J.F. McDougall) ছিলেন এই কমিশনের সহ-সচিব।
কমিশন গঠনের প্রেক্ষাপট
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সংঘটিত হয়। শিল্পক্ষেত্রে নানান নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করে জাতীয় আয় বৃদ্ধির নানা উদ্যোগের আয়োজন চলছিল। এমতবস্থায় ভারতবাসীর জীবনযাত্রায় নানা পরিবর্তন সূচিত হওয়ায় শিক্ষাক্ষেত্রেও বহু নতুন সমস্যার উদ্ভব হয়েছিল। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু বিদ্যালয়ের সংখ্যা আশানুরূপ বৃদ্ধি পায়নি। পাঠ্যসূচিতে নানা পরিবর্তন আনা হলেও শিক্ষার মানের উন্নতি হয়নি। প্রথমদিকে কারিগরি শিক্ষাপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরা কর্মসংস্থানের কিছু সুযোগসুবিধা লাভ করলেও তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বেকার সমস্যা বৃদ্ধি পেতে লাগল। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাব্যবস্থায় আরও কিছু নতুন চিন্তা ভাবনার অনুপ্রবেশ ঘটানো প্রয়োজন ছিল। তেমনই প্রয়োজন হয়েছিল পূর্ববর্তী দুটি কমিশনের (রাধাকৃষ্ণন কমিশন ও মুদালিয়র কমিশন সুপারিশগুলির পূর্ণ সমীক্ষা ও পরিবর্তন সাধন। এই জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ লাভের উদ্দেশ্যে আরও একটি কমিশন গঠিত হল। এটি ভারতীয় শিক্ষা কমিশন (১৯৬৪-৬৬) বা সভাপতির নামানুসারে কোঠারি কমিশন নামে পরিচিত।
ভারতের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যাসমূহ
ভারতের তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থায় বিষয়বস্তু, পাঠক্রম, জাতীয় উন্নয়ন, মূল্যবোধ এবং আরও অনেক ক্ষেত্রেই বেশ কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি বিদ্যমান ছিল। তাই সেই সময়ের শিক্ষাব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করা এবং তাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।
- কৃষিক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত গুরুত্ব : ভারতের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় কৃষিক্ষেত্রে কোনো গুরুত্বই প্রদান করা হয়নি। এর ফলে কৃষি ব্যবস্থাও যথাযথভাবে বিকশিত হতে পারেনি। কৃষি, শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা ছিল। তাই পাঠক্রমে কৃষি শিক্ষার অন্তর্ভুক্তিকরণ অপরিহার্য।
- চরিত্র গঠন এবং নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ চর্চায় গুরুত্বের অভাব : পূর্বে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ বিকাশের ক্ষেত্রে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হতো না। শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল, যাতে তারা সুনাগরিক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিতে পরিণত হতে পারে।
- জাতীয় পুনর্গঠনের সাথে সংযোগহীনতা : একটি জাতির উন্নয়নের স্বার্থে পাঠক্রমে বৃত্তিমূলক বিষয়াবলীর অন্তর্ভুক্তিকরণ অত্যন্ত আবশ্যক। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষ শ্রমশক্তির প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম।
- মাত্রাতিরিক্ত তত্ত্বগত শিক্ষা : বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় কেবল তাত্ত্বিক বা পুঁথিগত শিক্ষার ওপরই অত্যধিক জোর দেওয়া হতো এবং সহ-পাঠক্রমিক কার্যকলাপের (co-curricular activities) প্রতি কোনো মনোযোগই দেওয়া হতো না।
প্রধান সুপারিশসমূহ
শিক্ষার সর্বক্ষেত্রে উন্নতির জন্য কোঠারি কমিশন যেসব গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছেন সে সম্পর্কে নিম্নে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হল-
শিক্ষা ও জাতীয় লক্ষ্য
কমিশন মনে করেন জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা এমন হবে যা ভারতীয় কৃষ্টি ও মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।
- উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে, কমিশন শিক্ষার সাথে কর্ম-অভিজ্ঞতার সংযোগ স্থাপন এবং মাধ্যমিক শিক্ষাকে বৃত্তিমুখী করার সুপারিশ করেছিল।
- সামাজিক ও জাতীয় সংহতি : শিক্ষার উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় চেতনা ও ঐক্যকে সুদৃঢ় করা এবং বৈষম্য হ্রাসের লক্ষ্যে একটি অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
- আধুনিকীকরণ : প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার উদ্দেশ্যে, কমিশন বিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণাকর্ম এবং সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তির বিকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিল।
- সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ : শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন এবং নৈতিক ও নীতিগত মূল্যবোধের চর্চা ও বিকাশের ওপর কমিশন জোর দিয়েছিল।
- গণতন্ত্রকে শক্তিশালীকরণ : আলোকিত নাগরিকসত্তা গড়ে তোলা এবং সর্বসাধারণের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর মাধ্যমে, কমিশন ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল।
বিভিন্ন স্তরে শিক্ষার উদ্দেশ্য
কোঠারি কমিশন সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে কয়েকটি স্তরে ভাগ করে প্রত্যেক স্তরের জন্য শিক্ষার বিভিন্ন উদ্দেশ্যের কথা বলেছে। যথা-
- প্রাক্-প্রাথমিক স্তরের (১-৩ বছর পর্যন্ত বিস্তৃত) শিক্ষার উদ্দেশ্য হল- ১) প্রাক্-প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার ব্যাপক বিস্তারের জন্য বিদ্যালয় স্থাপন, ২) বিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনায় বেসরকারি সংস্থাগুলিকে উৎসাহ দান, ৩) প্রাক্-প্রাথমিক স্তরের পাঠক্রম যথেষ্ট নমনীয় হবে, ৪) শিশুর মধ্যে সু-অভ্যাস ও স্ব্যাস্থাভ্যাস গঠন, ৫) সামাজিক চেতনার সঞ্চার, ৬) শিশুর কৌতূহল প্রবৃত্তির বিকাশ ঘটানো ইত্যাদি।
- প্রাথমিক স্তরের (৭-৮ বছর পর্যন্ত বিস্তৃত) শিক্ষার উদ্দেশ্য হল- ১) শিশুর মধ্যে সু-অভ্যাস গড়ে তোলা, ২) অপচয় ও অনুন্নয়ন রোধ, ৩) সামাজিক গুণাবলীর বিকাশ সাধন, ৪) সৃজনশীলতায় উৎসাহ দান, ৫) পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মানুবর্তিতার বোধ সৃষ্টি করা ইত্যাদি।
- মাধ্যমিক স্তরের (২ বা ৩ বছর পর্যন্ত বিস্তৃত) শিক্ষার উদ্দেশ্য হল- ১) গণতান্ত্রিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ করা, ২) সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ সাধন, ৩) কায়িক শ্রমের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা, ৪) সৃজনশীলতায় উৎসাহ দান, ৫) নীতিবোধ ও আধ্যাত্মিকতার বিকাশ সাধন, ৬) শিশুদের সামাজিক অভিযোজনে সক্ষম করে তোলা ইত্যাদি।
সাংগঠনিক কাঠামো
কোঠারি কমিশন (১৯৬৪-৬৬) ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি প্রমিত ‘১০+২+৩’ শিক্ষা কাঠামোর প্রস্তাব করেছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক সংহতি সাধন। এই কাঠামোতে ১০ বছরের সাধারণ বিদ্যালয় শিক্ষা (প্রাথমিক + মাধ্যমিক), ২ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বিশেষায়িত শিক্ষা এবং স্নাতক ডিগ্রির জন্য ৩ বছর সময়কাল বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এই কাঠামোর মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ :
- প্রাক-বিদ্যালয়/প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা : ১ থেকে ৩ বছর।
- প্রাথমিক শিক্ষা : ৭ থেকে ৮ বছর (যা নিম্ন প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকে বিভক্ত)।
- নিম্ন মাধ্যমিক/হাই স্কুল : ৩ বা ২ বছর; ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর একটি পাবলিক পরীক্ষার মাধ্যমে এই স্তরের সমাপ্তি ঘটে।
- উচ্চ মাধ্যমিক (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি) : ২ বছরের বিশেষায়িত শিক্ষা (একাডেমিক বা বৃত্তিমূলক), যা কলেজ নয়—বরং বিদ্যালয়েই প্রদান করার বিধান রাখা হয়েছিল।
- উচ্চশিক্ষা : ৩ বছর মেয়াদী স্নাতক ডিগ্রি এবং তার পরবর্তী বিশেষায়িত শিক্ষা।
পাঠক্রম
কোঠারি কমিশন (১৯৬৪-৬৬) বহুমুখী পাঠক্রমের সুপারিশ করেছে, তাদের মতে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষা এবং পাঠক্রমে কর্ম-অভিজ্ঞতা ও বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিল। বৃত্তিমূলক শিক্ষা, বিজ্ঞান শিক্ষা এবং নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর জোর প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন সাধন করাই ছিল এই কমিশনের মূল লক্ষ্য। কমিশন বিদ্যালয় শিক্ষার প্রতিটি স্তরের জন্য যে সমস্ত পাঠ্যসূচি সুপারিশ করেছে, তা হল-
নিম্ন প্রাথমিক স্তর (Lower primary stage_Classes I-IV)
- মাতৃভাষা ও আঞ্চলিক ভাষা (Mother tongue or regional language)
- গণিত (Mathematics)
- বিজ্ঞান ও সমাজ বিজ্ঞান (Science and social studies)
- সৃজনশীল কার্যক্রম (Creative activities)
- কর্ম অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবা (Work experience and social service)
- স্বাস্থ্য শিক্ষা (Health education)
উচ্চ প্রাথমিক স্তর (Higher primary stage_ Classes V-VII)
- দুটি ভাষা—মাতৃভাষা এবং হিন্দি বা ইংরেজি (Two languages-mother tongue and Hindi or English)
- গণিত (Mathematics)
- বিজ্ঞান (Science)
- সমাজ বিজ্ঞান (Social studies)
- কলা (Art)
- কর্ম অভিজ্ঞতা (Work experience)
- Physical education moral and spiritual education
নিম্ন মাধ্যমিক স্তর (Lower secondary stage_ Classes VIII-X)
- তিনটি ভাষা—মাতৃভাষা, আঞ্চলিক ভাষা এবং ইংরেজি (Three languages- mother tongue, regional language and English)
- গণিত (Mathematics)
- বিজ্ঞান (Science)
- ইতিহাস, ভূগোল ও পৌরনীতি (History, geography and civics)
- কলা (Art)
- কর্ম অভিজ্ঞতা এবং সমাজবিজ্ঞান (Work experience and social science)
- শারীরশিক্ষা (Physical education)
- নৈতিক শিক্ষা (Moral education)
উচ্চ মাধ্যমিক স্তর (Higher secondary stage_Classes XI-XII)
- দুটি ভাষা- একটি আধুনিক ভারতীয় ভাষা এবং একটি বিদেশি ভাষা (Two languages- a Modern Indian Language and a foreign language)
- নিম্নোক্ত বিষয়গুলি থেকে যেকোনো তিনটি :
- ইতিহাস (History)
- ভূগোল (Geography)
- অর্থশাস্ত্র (Economics)
- তর্কশাস্ত্র (Logic)
- মনোবিদ্যা (Psychology)
- সমাজবিদ্যা (Sociology)
- কলা (Art)
- পদার্থবিজ্ঞান (Physics)
- রসায়ন (Chemistry)
- গণিত (Mathematics)
- জীববিজ্ঞান (Biology)
- শারীরশিক্ষা (Physical education)
- গার্হস্থ্য বিজ্ঞান (Home science)
- কারুশিক্ষা (Craft education)
- নৈতিক শিক্ষা (Moral education)
শিক্ষণ পদ্ধতি
শিক্ষাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত। বিদ্যালয়ের নিরস ও নিরুৎসাহ-ব্যঞ্জক শিক্ষাদান পদ্ধতির পরিবর্তে নমনীয়তা ও গতিশীলতা প্রবর্তন করা প্রয়োজন। স্বল্পমূল্যের শিক্ষাসহায়ক উপকরণ প্রস্তুত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে তা সরবরাহ করা উচিত। কার্যকর শিক্ষাদানের স্বার্থে শ্রেণীকক্ষের আকার সীমিত রাখা এবং ‘বহু-শ্রেণি শিক্ষাদান’ (multiple class teaching) পদ্ধতি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়।
অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
সংবিধানের ৪৫নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত নির্দেশমূলক নীতিটি, যা ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশুকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে তার দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জোরদার প্রচেষ্টা চালানো উচিত। বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যমান অপচয় ও অনুন্নয়ন হ্রাস করতে এবং বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া প্রতিটি শিশু যেন নির্ধারিত পাঠক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে উপযুক্ত কর্মসূচি প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
শিক্ষকদের মর্যাদা, যথার্থ পারিশ্রমিক ও শিক্ষক-শিক্ষণ
- শিক্ষার গুণগত মান এবং জাতীয় উন্নয়নে এর অবদান নির্ধারণকারী সকল উপাদানের মধ্যে শিক্ষক নিঃসন্দেহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সকল শিক্ষা প্রচেষ্টার সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে মূলত শিক্ষকের ব্যক্তিগত গুণাবলি ও চরিত্র, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশাগত দক্ষতার ওপর। তাই সমাজে শিক্ষকদের একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থান প্রদান করা আবশ্যক। তাঁদের যোগ্যতা ও দায়িত্বের কথা বিবেচনা করে, তাঁদের পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য চাকরির শর্তাবলি পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক হওয়া উচিত।
- স্বাধীন গবেষণা ও অধ্যয়ন পরিচালনা এবং তা প্রকাশ করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী নিয়ে কথা বলা ও লেখালেখি করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের যে শিক্ষায়তনিক স্বাধীনতা রয়েছে, তা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে।
- শিক্ষক-শিক্ষণ বিশেষ করে কর্মকালীন প্রশিক্ষণের (in-service education) ওপর যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করা উচিত।
ভাষা নীতি
- আঞ্চলিক ভাষা : ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ শিক্ষা ও সংস্কৃতির অগ্রগতির জন্য একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত। যদি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তবে জনগণের সৃজনশীল শক্তি বিকশিত হবে না, শিক্ষার মান উন্নত হবে না, জ্ঞান সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না এবং বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধানটি থেকেই যাবে, এমনকি তার বৃদ্ধিও সংকুচিত হবে। সেইজন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার মাধ্যম হবে আঞ্চলিক ভাষা।
- ত্রি-ভাষা সূত্র : মাধ্যমিক স্তরে রাজ্য সরকারগুলোর উচিত ‘ত্রি-ভাষা সূত্র’ গ্রহণ করা এবং তা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে বাস্তবায়ন করা। এই সূত্রে হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোতে হিন্দি ও ইংরেজি ছাড়াও একটি আধুনিক ভারতীয় ভাষা বিশেষত দক্ষিণ ভারতের কোনো একটি ভাষা অধ্যয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; অন্যদিকে, অ-হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোতে আঞ্চলিক ভাষা ও ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দি অধ্যয়নের বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে হিন্দি এবং/অথবা ইংরেজি ভাষার উপযুক্ত পাঠক্রমের ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা এই ভাষাগুলোতে নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়-স্তরের দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
- হিন্দি : হিন্দি ভাষার বিকাশে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো উচিত। হিন্দি ভাষাকে একটি ‘সংযোগকারী ভাষা’ (link language) হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, যাতে এটি সংবিধানের ৩৫১নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী ভারতের মিশ্র সংস্কৃতির (composite culture) সকল উপাদানের ভাবপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে।
- সংস্কৃত : ভারতীয় ভাষাগুলোর উৎপত্তি ও বিকাশে সংস্কৃতের বিশেষ গুরুত্ব এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় এর অনন্য অবদানের কথা বিবেচনা করে, বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংস্কৃত শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা আরও উদার ও ব্যাপক পরিসরে প্রদান করা উচিত।
- আন্তর্জাতিক ভাষা : ইংরেজি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভাষা অধ্যয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন। বিশ্বজুড়ে জ্ঞানের পরিধি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রসারিত হচ্ছে, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে। ভারতকে কেবল এই অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চললেই চলবে না, বরং এই জ্ঞানভাণ্ডারে নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ অবদানও রাখতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে, ইংরেজি ভাষা অধ্যয়নের বিষয়টি বিশেষভাবে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
শিক্ষায় সকলের সমান সুযোগ
শিক্ষায় সমতা বিধানের লক্ষ্যে জোরদার প্রচেষ্টা চালানো উচিত। যথা-
- শিক্ষাগত সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন এবং গ্রামাঞ্চল ও অন্যান্য অনগ্রসর এলাকায় উন্নত মানের শিক্ষাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত।
- সামাজিক ও জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে, শিক্ষা কমিশন কর্তৃক সুপারিশকৃত ‘কমন স্কুল ব্যবস্থা’ (Common School System) গ্রহণ করা উচিত। সাধারণ বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষারমান উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন। ‘পাবলিক স্কুল’-এর মতো সকল বিশেষায়িত বিদ্যালয়ের জন্য এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা উচিত যে, তারা শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করবে এবং বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণির মধ্যে বিভাজন রোধকল্পে একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে ‘অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ’ (free-studentships) প্রদান করবে। তবে, এই ব্যবস্থা সংবিধানের ৩০নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংখ্যালঘুদের অধিকারকে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ করবে না।
- বালিকা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা উচিত, কেবল সামাজিক ন্যায়-বিচারের স্বার্থেই নয়, বরং এই কারণেও যে, বালিকা শিক্ষা সামাজিক রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করে।
- অনগ্রসর শ্রেণি এবং বিশেষ করে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে আরও নিবিড় ও জোরদার প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন।
- শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য শিক্ষাগত সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারিত করা উচিত এবং এমন সমন্বিত কর্মসূচি প্রণয়নের প্রচেষ্টা চালানো উচিত, যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুরা সাধারণ বিদ্যালয়গুলোতেই পড়াশোনা করার সুযোগ পায়।
প্রতিভা শনাক্তকরণ
উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিভাকে যথাসম্ভব অল্প বয়সেই শনাক্ত করা এবং এর পূর্ণ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উদ্দীপনা ও সুযোগ প্রদান করা অপরিহার্য।
কর্ম-অভিজ্ঞতা ও জাতীয় পরিষেবা
পারস্পরিক সেবা ও সহায়তার উপযুক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যালয় এবং সমাজকে একে অপরের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা উচিত। সেই অনুযায়ী কর্ম-অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় পরিষেবা পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এক্ষেত্রে, সমাজসেবা, জাতীয় পুনর্গঠন ও সমস্যাবহুল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শিক্ষাব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা বাঞ্ছনীয়। এই কর্মসূচিগুলোতে আত্ম-নির্ভরশীলতা, চরিত্র গঠন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বোধ বিকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা উচিত।
বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণা
জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে, বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণাকে উচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা উচিত। বিদ্যালয় শিক্ষার শেষ পর্যায় পর্যন্ত বিজ্ঞান ও গণিত সাধারণ শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
কৃষি ও শিল্পের জন্য শিক্ষা
কৃষি ও শিল্পের উপযোগী শিক্ষার বিকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা উচিত। যথা-
- প্রতিটি রাজ্যে অন্তত একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থাকা বাঞ্ছনীয়। যথাসম্ভব, এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একক-ক্যাম্পাসভিত্তিক হওয়া উচিত; তবে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ভিন্ন ভিন্ন ক্যাম্পাসে এদের অঙ্গ-কলেজ বা অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে। এছাড়া, যেখানে প্রয়োজনীয় সম্ভাবনা বিদ্যমান, সেখানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে যাতে তারা কৃষির এক বা একাধিক দিকের অধ্যয়নের জন্য শক্তিশালী বিভাগ গড়ে তুলতে পারে।
- কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে, শিল্প-কারখানায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ বা ব্যবহারিক অনুশীলনকে শিক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করা উচিত। কারিগরি শিক্ষা ও গবেষণার সাথে শিল্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন; এর মাধ্যমে উভয় দিক থেকেই জনবলের আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করা উচিত এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা, নকশা প্রণয়ন ও পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।
- দেশের কৃষি, শিল্প এবং অন্যান্য কারিগরি ক্ষেত্রে জনবলের চাহিদার ওপর নিয়মিত পর্যালোচনা চালানো প্রয়োজন; পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে উত্তীর্ণ জনবল এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ—এই দুইয়ের মধ্যে একটি যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত।
স্কুল গুচ্ছ বা জোট :
স্কুল জোট গঠন কোঠারি কমিশনের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ। কোঠারি কমিশন তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন যে, পাশাপাশি কতগুলি স্কুল নিয়ে জোট বা স্কুল গুচ্ছ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি জোটে থাকবে নিম্ন প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলি। জোটের মাধ্যমে স্কুলগুলির মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব গড়ে উঠবে। জোটের স্কুলগুলি একযোগে শিক্ষামানের উন্নতির জন্য চেষ্টা করবে। জোটের অন্তর্ভুক্ত প্রাথমিক স্কুলের ছাত্র ও শিক্ষক পাশাপাশি স্কুলের ল্যাবরেটরি পরিদর্শন ও ব্যবহার, লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করার সুযোগ এবং বাৎসরিক খেলাধুলাতে অংশগ্রহণ ও উৎসব অনুষ্ঠানাদিতে যোগদানের সুযোগ পাবে। মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকগণ জোটের অন্তর্গত প্রাথমিক শিক্ষকগণকে পাঠক্রম এবং পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ দেবেন। মাঝে মাঝে মাধ্যমিক শিক্ষকগণ প্রাথমিক স্কুলগুলিতে পরীক্ষামূলকভাবে পাঠদান করবেন। এর মধ্যে দিয়ে আঞ্চলিক স্কুলগুলির মধ্যে বিচ্ছিন্নতা দূর হবে, পারস্পরিক সাহায্যের ভিত্তিতে শিক্ষার মানের উন্নতি সাধিত হবে। এমন কি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে পাঠক্রমের পরিবর্তন সাধন পর্যন্ত করতে পারবে। এরূপে স্কুলগুলি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।
কমন স্কুল ব্যবস্থা
কোঠারি কমিশন ‘কমন স্কুল ব্যবস্থা’ (Common School System)-এর সুপারিশ করেছিল, যার অন্তর্ভুক্ত হবে সমস্ত সরকারি বিদ্যালয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরিচালিত বিদ্যালয়সমূহ এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো। এই শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আগামী ২০ বছরের মধ্যে একটি সাধারণ জনশিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা দেশের প্রতিটি প্রান্তে বিস্তৃত হবে এবং সকল শিশুর জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে যাতে একজন সাধারণ অভিভাবক তাঁর সন্তানকে কোনো অস্বীকৃত বা অনুমোদনহীন বিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব না করেন।
কমন স্কুল ব্যবস্থা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার সুযোগের সমতা বিধান করা; আর তা সম্ভব হতো মুষ্টিমেয় ব্যয়বহুল বেসরকারি বিদ্যালয় এবং বিপুল সংখ্যক সরকারি ও স্থানীয় সংস্থা পরিচালিত বিদ্যালয়ের মধ্যে বিদ্যমান বিশাল ব্যবধান দূর করার মাধ্যমে। এই লক্ষ্যে কমিশন বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব করেছিল, যেমন:
- বিভিন্ন পরিবেশে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা।
- সকল বিদ্যালয়েই উন্নত শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
- পর্যায়ক্রমে শিক্ষা বেতন বা টিউশন ফি তুলে দেওয়া, প্রাথমিক স্তরে চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মধ্যে এবং নিম্ন-মাধ্যমিক স্তরে পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সমাপ্তির মধ্যে।
পাঠ্যপুস্তক রচনা
উদার প্রণোদনা ও পারিশ্রমিক প্রদানের নীতির মাধ্যমে সেরা লেখক-প্রতিভাদের আকৃষ্ট করে বইয়ের গুণগত মান উন্নত করা উচিত। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উচ্চমানের পাঠ্যপুস্তক উৎপাদনের লক্ষ্যে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাঠ্যপুস্তকের ঘনঘন পরিবর্তন পরিহার করা উচিত এবং সেগুলোর মূল্য এমন পর্যায়ে রাখা উচিত, যাতে সাধারণ আর্থিক সামর্থ্যের শিক্ষার্থীরাও তা ক্রয় করতে সক্ষম হয়। শিশুদের উপযোগী বই এবং আঞ্চলিক ভাষায় রচিত বিশ্ববিদ্যালয়-পর্যায়ের বইগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
পরীক্ষা ব্যবস্থা
পরীক্ষা সংস্কারের একটি প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা ও বৈধতা বৃদ্ধি করা এবং মূল্যায়নকে এমন একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করা, যার উদ্দেশ্য হবে শিক্ষার্থীকে তার অর্জনের স্তর উন্নত করতে সহায়তা করা, কেবল কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে তার পারদর্শিতার গুণমানকে ‘প্রত্যয়িত’ করা নয়।
আংশিক সময়ের শিক্ষা ও করসপনডেন্স কোর্স
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আংশিক সময়ের শিক্ষা ও করসপনডেন্স কোর্স-এর পাঠক্রমের ব্যাপক প্রসার ঘটানো উচিত। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কৃষি, শিল্প ও অন্যান্য ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্যও অনুরূপ সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা প্রয়োজন। আংশিক সময়ের শিক্ষা ও করসপনডেন্স কোর্স-এর পাঠক্রমের মাধ্যমে প্রদত্ত শিক্ষাকে পূর্ণকালীন শিক্ষার সমমর্যাদা প্রদান করা উচিত। এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা স্কুলজীবন থেকে কর্মজীবনে উত্তরণকে সহজতর করবে, শিক্ষার প্রসারে সহায়তা করবে এবং এমন বিপুল সংখ্যক মানুষকে সুযোগ করে দেবে যাদের নিজেদের আরও শিক্ষিত করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, কিন্তু পূর্ণকালীন ভিত্তিতে তা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
সাক্ষরতা ও বয়স্ক শিক্ষার প্রসার
- ব্যাপক নিরক্ষরতা দূরীকরণ কেবল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং উৎপাদনমুখী কর্মসূচি বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে ত্বরান্বিত করার জন্যই অপরিহার্য নয়; বরং সামগ্রিকভাবে জাতীয় উন্নয়নের গতিবেগ সঞ্চারের জন্যও তা একান্ত প্রয়োজন। বৃহৎ বাণিজ্যিক, শিল্প ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি খাতের শিল্প-উদ্যোগগুলো থেকে কর্মী গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাক্ষরতা অভিযান সংগঠিত করার কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন বিশেষ করে ‘সমাজ ও জাতীয় পরিষেবা কর্মসূচি’-র অংশ হিসেবে।
- তরুণ ও কর্মরত কৃষকদের শিক্ষার ওপর এবং যুবকদের স্ব-কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা উচিত।
খেলাধুলা ও ক্রীড়া
সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি, যারা এই ক্ষেত্রে বিশেষ পারদর্শিতা প্রদর্শন করে, তাদের শারীরিক সক্ষমতা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব বিকাশের লক্ষ্যে খেলাধুলা ও ক্রীড়া কার্যক্রমকে ব্যাপক পরিসরে গড়ে তোলা উচিত। যেসব স্থানে দেশব্যাপী শারীরিক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য খেলার মাঠ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সংখ্যালঘুদের শিক্ষা
১৯৬১ সালের আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সম্মেলনের বিবৃতিতে যেমনটি প্রস্তাব করা হয়েছিল, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করা ছাড়াও তাদের শিক্ষাগত স্বার্থ সমুন্নত করার লক্ষ্যেও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
নারী শিক্ষা
কমিশন মনে করেন নারীশিক্ষার প্রসারের ব্যাপারে বর্তমানে আর কোন দ্বিমত নেই। পারিবারিক কল্যাণ ও শিশুদের চরিত্র গঠনের জন্য মেয়েদের শিক্ষার সবিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাছাড়া নারীশিক্ষা জন্মহার (fertility rate) কমাতে সাহায্য করে। আধুনিক যুগে মেয়েদের ভূমিকা শুধু গৃহ ও সন্তান পালনের মধ্যে আবদ্ধ নয়। বর্তমানে মেয়েরা পুরুষের সঙ্গে কাঁধ কাঁধ মিলিয়ে সামাজিক অগ্রগতিতে অংশ নিচ্ছে। স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতীয় নারীপুরুষের সঙ্গে সমানভাবে অংশ নিয়েছে। দেশের দারিদ্র, নিরক্ষরতা, ক্ষুধা ও স্বাস্থ্যহীনতার বিরুদ্ধেও আজ তাদের সমানভাবে পুরুষের পাশে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করতে হবে।
শিক্ষা ও আধুনিকীকরণ
কোঠারি কমিশন (১৯৬৪-৬৬) শিক্ষাকে ভারতে সামাজিক রূপান্তর ও আধুনিকায়নের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল শিক্ষাব্যবস্থাকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং জাতীয় উন্নয়নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা। একটি দক্ষ, উৎপাদনশীল ও গণতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবী সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই কমিশন বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা, বৃত্তিমূলক দক্ষতার বিকাশ সাধন, জাতীয় সংহতি জোরদার করা।
উপরে নির্দেশিত রূপরেখা অনুযায়ী শিক্ষার পুনর্গঠনের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হবে। লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগ ক্রমশ বৃদ্ধি করা, যাতে যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় আয়ের ৬ শতাংশ সমপরিমাণ ব্যয়ের স্তরে পৌঁছানো যায়।
কমিশনের রিপোর্টের ইতিবাচক দিক
- বিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষার জন্য একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রস্তাব করেছিল, যা একটি জাতীয় রূপরেখা প্রদান করে।
- বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণির মধ্যকার ব্যবধান দূর করার লক্ষ্যে “কমন বিদ্যালয় ব্যবস্থা” (এলাকাভিত্তিক বিদ্যালয়) প্রবর্তনের পক্ষে জোরালো সুপারিশ করেছিল এবং ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলেছিল।
- শিক্ষার প্রথম দশ বছরের পাঠক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিজ্ঞান ও গণিতকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল; পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মাধ্যমিক শিক্ষার বৃত্তিমুখীকরণের ওপর জোর দিয়েছিল।
- শিক্ষকদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের জন্য উন্নত বেতন-ক্রম এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলোকে শক্তিশালী করার সুপারিশ করেছিল।
- শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত করেছিল; যার মূল লক্ষ্য ছিল উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সামাজিক ও জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করা এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটানো।
- শিক্ষাক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য দূর করার ওপর এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিল।
- বহুভাষিকতা ও জাতীয় সংহতিকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিদ্যালয়গুলোর জন্য “ত্রি-ভাষা সূত্র” প্রবর্তনের সুপারিশ করেছিল।
কমিশনের রিপোর্টের ত্রুটিসমূহ
- কমিশনের করা সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের জন্য কিংবা অবকাঠামো নির্মাণ ও শিক্ষকদের বেতন খাতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন ছিল; সরকারের পক্ষে সবসময় সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব ছিল না, যার ফলে সুপারিশগুলো আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে কিংবা অত্যন্ত ধীরগতিতে এগিয়েছে।
- কমিশনের প্রস্তাবনাগুলোকে ‘একই ছাঁচে তৈরি’ (one-size-fits-all) এমনভাবে দেখা হতো—অর্থাৎ, এগুলোতে ভারতের বিশাল ভাষাগত, আঞ্চলিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়নি।
- কমিশনের প্রণীত সুদূরপ্রসারী ও সামগ্রিক সুপারিশমালা এবং মাঠপর্যায়ে সেগুলোর প্রকৃত বাস্তবায়নের মধ্যে একটি বিশাল ব্যবধান বিদ্যমান ছিল।
- সুপারিশকৃত ‘ত্রি-ভাষা সূত্র’ টি ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিশেষ করে দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হয়, যার ফলে এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানাবিধ জটিলতা দেখা দেয়।
- বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়গুলোর সুষ্ঠু পরিচালনার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ও সুস্পষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো প্রণয়ন করতে কমিশন ব্যর্থ হয়েছিল।
- সমালোচকদের মতে, সুপারিশগুলোতে শিক্ষার গুণমান বা সুনির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য শিখন ফলের (learning outcomes) ওপর গুরুত্ব না দিয়ে, বরং বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা বৃদ্ধির ওপরই অত্যধিক জোর দেওয়া হয়েছিল।
উপসংহার
কোঠারি কমিশন হল আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় সেই সংস্কারগুলোর অগ্রদূত, যা পরবর্তী ৪০ বছর ধরে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং যার প্রক্রিয়া আজও অব্যাহত রয়েছে। আর এ কারণেই, কমিশনের সুপারিশগুলো বর্তমানেও বাস্তবে রূপ লাভ করতে দেখা যাচ্ছে। এই বিষয়টিই সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নের সাফল্য সম্পর্কে অত্যন্ত জোরালো সাক্ষ্য বহন করে।
কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত নির্দেশিকা মেনেই পাঠক্রম বা পাঠ্যসূচির উন্নয়ন ও প্রণয়ন কাজ সম্পন্ন হয়। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা’ (National Curriculum Framework)-তে পরিবর্তন আনা হয়; এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের অর্জিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা এবং বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের জন্য নতুন ও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া।
‘রাজকীয় প্রতিভা বিকাশ বিদ্যালয়’ (Rajkiya Pratibha Vikas Vidyalayas)-এর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপনের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে, একই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত “অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের” অবস্থার কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি এখনো পরিলক্ষিত হয়নি। যদিও কর্মরত শিক্ষকদের জন্য ‘রিফ্রেসার কর্মসূচি’ (Refresher Courses) নিয়মিত আয়োজিত হয়, তবুও অধিকাংশ শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে কোনো উদ্ভাবনী পদ্ধতি বা কৌশলের প্রয়োগ ঘটান না।
কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত মূল্যায়ন পদ্ধতিটি পরবর্তীতে অনুসরণ করা হয়েছিল; যার ফলস্বরূপ বর্তমানে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ধারাবাহিক ও সামগ্রিক মূল্যায়ন’ (Continuous and Comprehensive Evaluation) ব্যবস্থাটি দেখতে পাই। এই মূল্যায়ন ব্যবস্থাটি শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ও পূর্ণাঙ্গ বিকাশে সহায়তা করে।
আরও পোস্ট পড়তে - এখানে ক্লিক করুন
সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি- Ravi, S. Samuel. A Comprehensive Study of Education. PHI Learning Private Limited, New Delhi.
- Banerjee, J.P. (1985). Education in India – Past, Present, Future. Central Library, Kolkata.
- Purkail, B.R. (1992). Milestone in Modern Indian Education. New Central Book agency (P) Ltd, Kolkata.
- Saha, Prof. (Dr.) Birbal., Pandit Avijit., Saha, Dr. Gautam., Sinha, Dr. Rudra Prasad. Contemporary India and Education. Aaheli Publishers, Kolkata.
- চট্টোপাধ্যায়, সরোজ। ভারতীয় শিক্ষার বিকাশ ও সমস্যা। নিউ সেন্ট্রাল বুক এজেন্সি (প্রা.) লিমিটেড, কলকাতা।
- ভক্তা, ভক্তি ভূষণ। ভারতীয় শিক্ষার রূপরেখা। অ আ ক খ প্রকাশণী, পূর্ব মেদিনীপুর।
- হালদার, গৌরদাস., শর্মা, প্রশান্তকুমার। আধুনিক ভারতীয় শিক্ষার বিকাশ। ব্যানার্জী পাবলিশার্স, কলকাতা।
- ইসলাম, নূরুল। ভারতীয় শিক্ষা-ইতিহাসের রূপরেখা। শ্রীধর প্রকাশনী, কলকাতা।






