শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষার বিভিন্ন রূপ | Educational Institution or Forms of Education

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (Educational Institution or Forms of Education) হল সেই ক্ষেত্র যেখান হতে একজন শিশু তার ভবিষ্যৎ জীবনের অমৃত রসের সন্ধান পায়। মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তি রচনা হয় শিক্ষার মাধ্যমে আর এই শিক্ষাকে সুশৃঙ্খল ভাবে সকলের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করে থাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আর আধুনিক পরিবর্তনের ধারা অনুযায়ী শিক্ষাবিদগণ শিক্ষার তিনটি রূপের সন্ধান পান, যা এই আর্টিকেল-এর মূল আলোচ্য বিষয়বস্তু।
শিক্ষা একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া শুরু হয় জন্মের পর থেকে এবং এর ব্যাপ্তিকাল মৃত্যু পর্যন্ত। আমরা যতদিন বাঁচি ততদিন শিখি। বস্তুত শিক্ষার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই, অবিরামভাবে এই প্রক্রিয়া ব্যক্তির জীবনে কাজ করে চলেছে। ফলস্বরূপ ব্যক্তিও নিরন্তর শিক্ষা অর্জন করে চলেছে। ফলস্বরূপ, ব্যক্তির অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারটিও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষার বিভিন্ন সংস্থা (Agency) বা প্রতিষ্ঠান (Institution) কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। তবে সব সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান এককভাবে শিশুর পরিপূর্ণ শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করতে অপারগ। ব্যক্তির জীবনে বিভিন্ন পর্যায় (Phase) আছে। এই পর্যায়গুলিতে বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানসমূহ ব্যক্তির জীবনকে বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করে। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলি আকার বা রূপের (Form) দিক থেকে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা- প্রথাগত (Formal), অপ্রথাগত (Informal) এবং প্রথাবহির্ভূত (Non-formal)।
নিয়ন্ত্রিত বা প্রথাগত শিক্ষা
সমাজ দ্বারা স্থাপিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সচেতনভাবে এবং উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে নির্দিষ্ট পাঠক্রম অনুসারে নির্দিষ্ট এবং যােগ্য ব্যক্তি (শিক্ষক) দ্বারা শিক্ষার্থীদের যে বিশেষ শিক্ষাদান করা হয়, তাই হল প্রথাগত বা বিধিবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা। নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা সম্বন্ধে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের দেওয়া সংজ্ঞাগুলি নিম্নে তুলে ধরা হল-
জে.পি. নায়েক (J.P. Naik)-বলেছেন, “সুনির্দিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলার মাধ্যমে যে শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত করা হয়, তাকে নিয়ন্ত্রিত বা প্রথাগত শিক্ষা বলে।”
পি.ডি. শুক্লা (P.D. Shukla)-এর মতে, “নিয়ন্ত্রিত বা প্রথাগত শিক্ষা হল এমন গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী পূর্বনির্ধারিত পাঠক্রম অনুশীলনের জন্য নিয়মিত একে অপরের মুখোমুখি হয়।”
উদাহরণ- বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, চার্চ ইত্যাদি।
নিয়ন্ত্রিত বা প্রথাগত শিক্ষার বৈশিষ্ট্য
নিয়ন্ত্রিত বা প্রথাগত শিক্ষার বৈশিষ্ট্যগুলি হল-
নির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পিত
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা পরিকল্পিত হয় নির্দিষ্ট লক্ষ্যের প্রেক্ষিতে। রাষ্ট্রের দর্শন, মনােবিদ্যা, ব্যক্তিগত ও সামাজিক প্রত্যাশা প্রভৃতিকে ভিত্তি করে শিক্ষার লক্ষ্য স্থির করা হয়।
নির্দিষ্ট সূচিদ্বারা সীমাবদ্ধ
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার একটি নির্দিষ্ট সূচি থাকে। একাধিক নিয়মনীতির ওপর ভিত্তি করে এই সূচি প্রস্তুত করা হয়।
নির্দিষ্ট পাঠক্রম
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় ব্যক্তির চাহিদা, সমাজের প্রত্যাশা, বিষয়ের প্রকৃতি, শিখনের মনস্তত্ত্ব ইত্যাদির পরিপ্রেক্ষিতে পাঠক্রম নির্ধারণ করা হয়।
কঠোর শৃঙ্খলা
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় কঠোর শৃঙ্খলা দেখা যায়। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক উভয়কেই এই শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিলে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়।
নিয়ন্ত্রিত বা প্রথাগত শিক্ষার ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা
একটি নির্দিষ্ট সামাজিক কাঠামাের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাব্যবস্থার বিশেষ কিছু সুবিধা থাকলেও এর সীমাবদ্ধতাও কম নয়। সেইসব সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিগুলি হল-
বৈচিত্র্যহীনতা
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার পাঠক্রমে বৈচিত্র্যের অভাব লক্ষণীয়। ফলে নিজস্ব রুচি, চাহিদা, আগ্রহ এবং সামর্থ্য অনুযায়ী পাঠক্রম শিক্ষার্থীরা পায় না।
পরীক্ষাকেন্দ্রিকতা
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা মূলত পরীক্ষা-কেন্দ্রিক। এই শিক্ষার দ্বারা একমাত্র বিষয়গত পারদর্শিতা ব্যতীত শিক্ষার অন্য লক্ষ্যগুলি কী পরিমাণে অর্জিত হয়েছে তা জানা যায় না।
যান্ত্রিক ও কৃত্রিম পদ্ধতি
এটি একটি যান্ত্রিক এবং কৃত্রিম শিক্ষাপদ্ধতি। চার দেয়ালে ঘেরা এই শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই হাঁপিয়ে ওঠে।
সুযোগ সুবিধার অভাব
স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের দেশে একদিকে প্রবল হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অন্যদিকে শিক্ষার প্রতি জনগণের বেড়ে চলা চাহিদা- এই দুটির মধ্যে সামঞ্জস্য আনার জন্য যে পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার প্রতিষ্ঠান প্রয়ােজন তার ব্যবস্থা করা এখনও পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। ফলে এই শিক্ষার আশানুরূপ বিস্তার ঘটেনি।
অনিয়ন্ত্রিত বা অপ্রথাগত শিক্ষা
পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে সার্থকভাবে মানিয়ে নিতে গিয়ে এবং নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য পরিবেশ থেকে কোনো শিশু যে জ্ঞান, দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা অর্জন করে তাই হল অনিয়ন্ত্রিত বা অপ্রথাগত শিক্ষা। সাধারণভাবে বিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের বাইরে কোনোরকম পূর্ব-নির্ধারিত রীতিনীতি, আচার অনুষ্ঠান বা বাধ্যবাধকতা ছাড়াই শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে যে শিক্ষা লাভ করে তাকে অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষা বলে। অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষা সম্বন্ধে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের দেওয়া সংজ্ঞাগুলি নিম্নে তুলে ধরা হল-
জে.পি. নায়েক (J.P. Naik)-বলেছেন, “সমাজ জীবনের অঙ্গ হিসেবে একজন ব্যক্তি যা কিছু শেখে তাই হল অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষা।”
কুম্বস (Coombs)-এর মতে, “অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষা হল সেই শিক্ষা প্রক্রিয়া যা সবসময় অনিয়ন্ত্রিত বা আকস্মিকভাবে মানুষের জীবনে কার্যকরী।”
উপরিউক্ত আলোচনায় একথা স্পষ্ট, বাস্তব জীবনের সমস্যা প্রত্যক্ষভাবে অনুশীলন করতে গিয়ে যে বাস্তব জ্ঞান, জীবন-বিধি ও আচরণ ধারা ব্যক্তি আয়ত্ত করে, তাকেই বলা হয় অনিয়ন্ত্রিত বা অপ্রথাগত শিক্ষা। উদাহরণ- পরিবার, ক্লাব, ক্রীড়া সংস্থা, ধর্মীয় সংস্থা, সাংস্কৃতিক সংগঠন, গ্রন্থাগার, মিউজিয়াম ইত্যাদি।
অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষার বৈশিষ্ট্য
অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষার বৈশিষ্ট্যগুলি হল-
নিয়ন্ত্রণহীন শিক্ষা
অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এই শিক্ষায় কোনোরকম প্রথাগত নিয়ন্ত্রণ থাকে না। শিক্ষার্থীর প্রাধান্য থাকলেও অন্য তিনটি উপাদানের (শিক্ষক, পাঠক্রম ও শিক্ষালয়) সেরকম কোনো প্রাধান্য থাকে না। শিক্ষার্থীর চাহিদা বা প্রবণতা অনুযায়ী এই শিক্ষা সংঘটিত হয়।
নির্দিষ্ট পাঠক্রমের অনুপস্থিতি
অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কোনো পাঠক্রম অনুসরণ করা হয় না। এই ধরনের শিক্ষা যেহেতু শিক্ষার্থীর চাহিদার ওপর নির্ভরশীল এবং যেকোনো বয়সের ব্যক্তি যে কোনো সময়েই এই শিক্ষা গ্রহণ করে, সেহেতু কোনো পূর্ব-নির্ধারিত পাঠক্রম অনুসরণের প্রয়োজন হয় না।
নির্দিষ্ট শিক্ষাস্তর ও বয়স থাকে না
অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় নির্দিষ্ট শ্রেণি বা শিক্ষাস্তর না থাকার কারণে নির্দিষ্ট কোনো বয়সেরও বাধ্যবাধকতা থাকে না। শিক্ষার্থী তার নিজের চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো বয়সে যেকোনো ধরনের শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে।
চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়
অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাব্যবস্থা চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এবং নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষালয়ের প্রয়োজন হয় না। বৃহত্তর সমাজ, পরিবার ইত্যাদি শিক্ষালয়ের ভূমিকা পালন করে।
অনিয়ন্ত্রিত বা অপ্রথাগত শিক্ষার ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা
আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষার গুরুত্ব প্রাচীনকালের তুলনায় অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে তার নানান সীমাবদ্ধতার কারণে। অনিয়ন্ত্রিত বা অপ্রথাগত শিক্ষার সীমাবদ্ধতাগুলি হল-
অভিজ্ঞতার অসম্পূর্ণতা
সমাজ দ্রুত পরিবর্তনশীল, আর এই পরিবর্তনশীল সমাজের সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষা খাপ খাইয়ে নিতে অক্ষম। কারণ এই শিক্ষা শিক্ষার্থীকে কোনো ধরনের দক্ষতা অথবা বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করতে পারে না।
চাহিদা পরিতৃপ্তিতে ব্যর্থ
অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষা বহু প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে আসছে। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষা বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুর নতুন নতুন চাহিদাগুলি পরিতৃপ্ত করতে পারছে না, যার ফলে শিশুর ব্যক্তিসত্তার সুষম বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।
সৃজনমূলক বিকাশের অনুপযোগী
অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় শিক্ষার্থীর সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ঘটার সুযোগ খুবই কম। এক্ষেত্রে কেবল পর্যবেক্ষণ এবং অন্ধ অনুকরণের দ্বারা শিক্ষা আয়ত্ত হয়।
মানসিক বিকাশে সহায়ক নয়
শিক্ষা শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশে সাহায্য করে। অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় শিশুর মানসিক বিকাশে বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে না, শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য যে ধরনের মানসিক প্রক্রিয়ার (সংরক্ষণ, পুনরুদ্রেক, প্রত্যভিজ্ঞা) দরকার তা অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষা সরবরাহ করতে পারে না।
প্রথাবহির্ভূত শিক্ষা
প্রথাবহির্ভূত শিক্ষা হল নিয়ন্ত্রিত ও অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মাঝামাঝি এক বিশেষ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা।
জে.পি. নায়েক (J.P. Naik)-এর মতে, “নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার বাইরে সংগঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রথাবহির্ভূত শিক্ষা বলে।”
প্রথাগত বিদ্যালয়ের বাইরে সংগঠিত একটি ধারাবাহিক শিখন প্রক্রিয়া হল প্রথাবহির্ভূত শিক্ষা। প্রথাবহির্ভূত শিক্ষা অর্জিত হয় সাধারণ ও আনুষ্ঠানিক বা প্রথাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে তবে শিখনের জন্য নির্দিষ্ট পরিবেশ ও পরিস্থিতি নির্ধারিত থাকে। প্রথাবহির্ভূত শিক্ষা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েই গ্রহণ করতে পারে। উদাহরণ- দূর শিক্ষা, মুক্ত শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা ইত্যাদি।
প্রথাবহির্ভূত শিক্ষার বৈশিষ্ট্য
প্রথাবহির্ভূত শিক্ষার ক্ষেত্রে যে বৈশিষ্ট্যগুলি লক্ষ্য করা যায় সেগুলি সংক্ষেপে উল্লেখ করা হল-
প্রাসঙ্গিকতা
প্রথাবহির্ভূত শিক্ষার কর্মসূচি প্রয়ােজনভিত্তিক এবং সকল বয়সের শিক্ষার্থীদের চাহিদার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়।
নমনীয়তা
নিয়ন্ত্রিত বা প্রথাগত শিক্ষার কড়াকড়ি প্রথাবহির্ভূত শিক্ষায় একেবারেই নেই। এই শিক্ষাব্যবস্থা সময়, স্থান, ব্যাপ্তি, পাঠ্যসূচি, পদ্ধতি এবং মূল্যায়ন প্রভৃতি দিক থেকে অত্যন্ত নমনীয়।
ব্যবহারিক দিক
প্রথাবহির্ভূত শিক্ষায় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় ক্ষেত্রের ওপর পাঠদান বা কর্মসূচি গ্রহণের ব্যবস্থা থাকে।
বিদ্যালয় ছুট শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ
প্রথাবহির্ভূত শিক্ষায় বিদ্যালয় ছুট শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।
বয়সসীমা না থাকা
প্রথাবহির্ভূত শিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনাে নির্দিষ্ট বয়সসীমা থাকে না।
প্ৰথাবহির্ভূত শিক্ষার ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা
শিক্ষার সার্বিক প্রসারে এবং শিক্ষার গণতন্ত্রীকরণের দিক থেকে প্ৰথাবহির্ভূত শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না ঠিকই, তবে এই শিক্ষাব্যবস্থাতেও বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়। ত্রুটিগুলি হল-
সামাজিক বিকাশের সুযোগের অভাব
প্রথাবহির্ভূত শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা যেহেতু দলগতভাবে শিক্ষালাভের সুযােগ কম পায়, তাই শিক্ষার্থীদের সামাজিক বিকাশের ক্ষেত্রটি ব্যাহত হয়।
সহযোগিতার অভাব
প্রথাবহির্ভূত শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা দলগতভাবে নিয়মিত শ্রেণি-শিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযােগ পায় না।
শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা কম
প্রথাগত শিক্ষার দ্বারা অর্জিত শংসাপত্রের গুরুত্ব অধিকাংশ সময়েই প্রথাবহির্ভূত শিক্ষার দ্বারা অর্জিত শংসাপত্রের তুলনায় বেশি।
আরও পোস্ট পড়তে - এখানে ক্লিক করুন
সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি- পাল, অভিজিৎ কুমার। শিক্ষা দর্শনের রূপরেখা। ক্লাসিক বুকস, কলকাতা।
- ঘোড়াই, নিমাই চাঁদ। শিক্ষাদর্শন ও সামাজিক শিক্ষা। সাঁতরা পাবলিকেশন প্রা. লি., কলকাতা।
- চট্টোপাধ্যায়, মিহির কুমার., চক্রবর্তী, প্রণব কুমার এবং ব্যানার্জী, দেবশ্রী। শিক্ষা প্রসঙ্গ। রীতা বুক এজেন্সি, কলকাতা।
- ব্যানার্জী, কে। শিক্ষাবিজ্ঞান। বাণী প্রকাশন, কলকাতা।






