|

সুবিধাবঞ্চিত শিশু: SC, ST, OBC এবং EWS | Socially Disadvantaged Children

সুবিধাবঞ্চিত শিশু (Disadvantaged Children) বা সামাজিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত শিশু (Socially Disadvantaged Children) বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের শ্রেণির শিশুদের যারা সকল প্রকার সামাজিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কিংবা বলা যেতে পারে, এরা এদের আর্থিক দুর্বলতা, শিক্ষার অভাব কিংবা জাতিগত অনগ্রসরতার কারণে সামাজিক মূল প্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায়, সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।

 

সুবিধাবঞ্চিত শিশু (Disadvantaged Children)

সুবিধাবঞ্চিত শিশু বলতে বোঝায় যারা সাংস্কৃতিক, আর্থিক, ভৌগোলিক কিংবা ভাষা বা লিঙ্গগত কারণে নানান অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সহজ ভাষায়, সুবিধাবঞ্চিত শিশু (Disadvantaged Children) বলতে এমন শিশুদের বোঝানো হয় যারা দারিদ্র্য, বৈষম্য, সামাজিক বঞ্চনা, প্রতিবন্ধকতা, অপুষ্টি, শিশুশ্রম, রোগ এবং জাতিগত বা শিক্ষার অভাবের কারণে নানান মৌলিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় বা পিছিয়ে রয়েছে, যার মধ্যে তপশিলি জাতি (Scheduled Caste), তপশিলি উপজাতি (Scheduled Caste), অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (Other Backward Class), অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণি (Economically Weaker Section, EWS) অন্তর্ভুক্ত।

 

তপশিলি জাতি (Scheduled Caste)

মানব সমাজের স্তরভেদে সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান হল দলিত সম্প্রদায় বা তপশিলি জাতি বা উপজাতির। ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় সর্বনিম্নে অবস্থান করায় সাধারণ জনস্রোত থেকে এরা অনেক দূরে অবস্থান করে। এই জাতি সাধারণ অস্পৃশ্য বা ‘Untouchables’ নামে অভিহিত। প্রাচীনকালের ভারতবর্ষে বর্ণ প্রথার প্রচলন ছিল, যেখানে চারটি বর্ণ যথা- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র কিন্তু এর বাইরেও অনেক মানুষ ছিল যারা উপরিউক্ত চারটি বর্ণের কোনটিরও অন্তর্ভুক্ত নয়, এরাই দলিত বা অস্পৃশ্য বলে পরিচিত। প্রাচীনকাল থেকেই এরা সমাজের নিপীড়নের শিকার। ভারতীয় সংবিধানে এদের ‘তপশিলি জাতি’ বা ‘Scheduled Caste(SC)’ বলে অভিহিত করা হয়।

2011 সালের আদমশুমারিতে দেখা যায় সমগ্র জনসাধারণের মধ্যে শতকরা 16.6 জন তপশিলি জাতিভুক্ত এই মানুষগুলির মধ্যে শতকরা 80 ভাগ বসবাস করেন গ্রামাঞ্চলে। সামাজিক, অর্থনৈতিক, এবং শিক্ষার দিক থেকে এই তপশিলিভুক্ত জাতিরা সমাজের মধ্যে হতভাগ্য, এবং এরা এদের সামাজিক সাম্য অর্জনের জন্য প্রাণপণে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

 

তপশিলি উপজাতি (Scheduled Caste)

ভারতীয় সংবিধানে সে ভাবে তপশিলি উপজাতির সংজ্ঞা দেওয়া নেই। সংবিধানে 366(25) নং অনুচ্ছেদে অনুযায়ী যে সব সম্প্রদায়ই তপশিলি উপজাতি তারা 342 নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তপশিলিভুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে তারাই তপশিলি উপজাতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সংবিধানে 342 নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনসাধারণের প্রতি বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাষ্ট্রপতি যে সব গোষ্টীকে উপজাতি সম্প্রদায় বলে ঘোষণা করেছেন তারাই তপশিলি উপজাতি। 

2011 সালের জনগণনা অনুযায়ী, দেশে আদিবাসী জনসংখ্যা হল 10.4 কোটির বেশি যা জনসংখ্যার 8.6 শতাংশ। পৃথিবীর মধ্যে উপজাতি জনগণের মধ্যে ভারতবর্ষের স্থান দ্বিতীয়।

 

অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (Other Backward Class)

পরপর কয়েকটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা হয়ে যাওয়া সত্ত্বেয় আমাদের দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বর্তমান রয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে দেশের কিছু নাগরিককে তপশিলি জাতি, উপজাতি এবং অনগ্রসর শ্রেণি হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এদের মধ্যে অনগ্রসর শ্রেণির অর্থ সেই সব সম্প্রদায় বা শ্রেণি যেগুলি তপশিলি জাতি বা উপজাতিভুক্ত নয়, কিন্তু সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকার কারণে যাদের কেন্দ্রীয় সরকার চিহ্নিত করেছে এবং জীবিকা ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের জন্য সংরক্ষণের সুপারিশ করেছে যাতে তারা ভারতের ভৌগোলিক পরিসীমার মধ্যে সর্বত্র সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের চাকরির ক্ষেত্রে নিজেদের সঠিক ভাবে তুলে ধরার সুযোগ পায়।

1990 সালের 7th আগস্ট জনতা দলের সরকার এই অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিদের জন্য সংরক্ষণ প্রথা ঘোষণা করেছিলেন। মণ্ডল কমিশনের বিবরণী অনুযায়ী শতকরা 27 টি আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিল। মণ্ডল কমিশন 1980 সালে তাঁদের বিবরণী পেশ করেছিলেন। বিষয়টি বারংবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় আলোচনা করা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

 

অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণি (Economically Weaker Section, EWS)

EWS হল সমাজের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণি। তবে এই শ্রেণির মধ্যে SC, ST এবং OBC শ্রেণি অন্তর্ভুক্ত নয়। এরা সাধারণত General Category-র অন্তর্গত। এরাও এদের আর্থিক দুর্বলতার কারণে নানান সামাজিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণি বা EWS-এর জন্য শিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে 10% সংরক্ষণ রয়েছে, যা দেশের সংবিধানের 103তম সংশোধনী, 2019-এর মাধ্যমে চালু করা হয়েছিল। তবে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণিভুক্ত হতে হলে নিম্নলিখিত মানদণ্ডগুলি পূরণ করতে হবে, যেমন-

  1. EWS সার্টিফিকেট শুধুমাত্র সাধারণ (General Category) শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য।
  2. পারিবারিক বার্ষিক আয় 8 লক্ষের কম হতে হবে।
  3. পারিবারিক জমির পরিমাণ 5 এককের বেশি হবে না।
  4. বাসস্থান (প্রার্থী যে গৃহে বাস করে) এর আয়তন 1000 বর্গফুটের কম হবে।

অনলাইন বা অফলাইন-এর মাধ্যমে রাজ্য-নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে আবেদন করা যায়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা রাজস্ব আধিকারিকরা এই সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকেন।

 

 

আরও পোস্ট পড়তে - এখানে ক্লিক করুন

 

 

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি
  1. দেবনাথ, দেবব্রত., দেবনাথ, আশিষ কুমার। ব্যতিক্রমধর্মী শিশু ও তার শিক্ষা। রীতা বুক এজেন্সী, কলকাতা।
  2. চক্রবর্তী, প্রণব কুমার., ব্যানার্জী, দেবশ্রী., দেবনাথ, দেবব্রত। সর্বসমাবিষ্ট শিক্ষা। রীতা পাবলিকেশন, কলকাতা।
  3. দে, ঐশ্বর্য্যা। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা। আহেলি পাবলিশার্স, কলকাতা।

 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *