| |

কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপ এবং ব্যবহার

যেকোনো পরিসংখ্যা বণ্টনে পরিলক্ষিত হয়, তথ্যগুলি একটি বিশেষ বিন্দুর দিকে একত্রিত অবস্থায় অবস্থান করছে। অর্থাৎ, তথ্যসারির উপরের দিকে ও নীচের দিকের তুলনায় মধ্যবর্তী স্থানে স্কোরের একত্রীকরণের প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। স্কোরের এরূপ প্রবণতাকে কেন্দ্রীয় প্রবণতা বলে। কেন্দ্রীয় প্রবণতার অর্থ হল কেন্দ্রের দিকে যাওয়ার প্রবণতা বা ঝোঁক। একগুচ্ছ স্কোরে পৃথক মানের স্কোর থাকলে তাদের কেন্দ্রে যাওয়ার ঝোঁক বা প্রবণতা থাকে, এটাই হল কেন্দ্রীয় প্রবণতা। অর্থাৎ, এটি সমস্ত বণ্টনের প্রতিনিধি রূপে কাজ করে। কেন্দ্রীয় প্রবণতা বা কেন্দ্রীয় অবস্থানের সূচক একটি বণ্টনের বিভিন্ন স্কোরের মধ্যে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তাদের মাঝামাঝি যাওয়ার একটি প্রবণতা থাকে।

According to Garrett, “Central tendency is single figure value that represents a large number of data and around which there remains the greatest amount of concentration.”

According to Hans Raj, “Central Tendency is a device to know the position of different groups.”

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, কোনো পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে, সেখান থেকে বাইরে আসা পরীক্ষার্থীদের যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, পরীক্ষা কেমন হয়েছে? সেক্ষেত্রে অধিকাংশরাই উত্তর দেবে মোটামুটি বা মাঝামাঝি হয়েছে। আবার যেকোনো পরীক্ষা পত্রের মূল্যায়ন করলে দেখা যায় যে, সেখানে মধ্যবর্তী স্থানে প্রাপ্ত নম্বরের সংখ্যা বেশি থাকে। বিভিন্ন স্কোরগুচ্ছের মাঝামাঝি স্থানে যাওয়ার যে প্রবণতা, তাকেই বলে কেন্দ্রীয় প্রবণতা।

 

কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপ

কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপ তিনটি, যথা- গড় (Mean), মধ্যমান (Median) ও মোড (Mode)। এদের ব্যবহার সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল-

গড়-এর ব্যবহার
  1. কেন্দ্রীয় প্রবণতার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরিমাপ জানার প্রয়োজন হলে, তখন গড় (Mean) ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  2. যখন কোনো রাশিমালার ব্যাপক তাৎপর্য নির্ণয়ের প্রয়োজন হয়, তখন গড় (Mean) ব্যবহার করা হয়।
  3. যেকোনো রাশিমালার বিভিন্ন স্কোরের মধ্যে বৈশিষ্ট্যমূলক তুলনা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে গড়ের ব্যবহার করা হয়।
  4. কেন্দ্রীয় প্রবণতার একটি সহজ ও সরল পদ্ধতি হিসাবে গড়-কে বেছে নেওয়া হয়।
মধ্যমান-এর ব্যবহার
  1. যেকোনো রাশিমালায় দ্রুত কেন্দ্রীয় প্রবণতার মান জানার প্রয়োজন হলে, সেক্ষেত্রে মধ্যমান-এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  2. রাশিমালার বণ্টনের মধ্যবিন্দু জানার প্রয়োজন হলে মধ্যমান-এর ব্যবহার করা হয়।
  3. কোনো একটি রাশিমালার বণ্টনের যদি কোনো প্রকার অসমতা থাকে, তাও সেক্ষেত্রে মধ্যমান-এর ব্যবহার করা যেতে পারে।
  4. কোনো রাশিমালাকে সমান দুটি ভাগে ভাগ করতে গেলে, সেক্ষেত্রেও মধ্যমান-এর ব্যবহার হয়।
মোড-এর ব্যবহার
  1. যখন কেন্দ্রীয় প্রবণতার মান দ্রুত জানার প্রয়োজন হয়, তখন মোড-এর ব্যবহার করা হয়।
  2. যেকোনো গাণিতিক গণনা ছাড়া, কেন্দ্রীয় প্রবণতা সম্বন্ধে ধারণা পেতে মোড-এর প্রয়োজন হয়।
  3. কোনো বণ্টনে একাধিকবার কোন সংখ্যাটির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, তা জানতে মোড-এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

 

 

আরও পোস্ট পড়তে - এখানে ক্লিক করুন

 

 

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি
  1. Mangal, S. K. Statistics in Education and Psychology. PHI Learning Private Limited, New Delhi.
  2. Garrett, H. E. Statistics in Psychology and Education. Surjeet Publications, Delhi, India.
  3. Ali, L. Statistics in Education and Psychology. Global Net Publication, New Delhi, India.
  4. আচার্য, পূর্ণেন্দু। শিক্ষাক্ষেত্রে মূল্যায়ন ও নির্দেশনা। শ্রীতারা প্রকাশনী, কলকাতা।
  5. ইসলাম, নূরুল। শিক্ষায় মূল্যায়ন ও পরিমাপ। শ্রীধর প্রকাশনী, কলকাতা।

 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *