যোগাযোগ – ধারণা, সংজ্ঞা এবং প্রকারভেদ

যোগাযোগ সব জীবন্ত বস্তুর একটি অবিচ্ছেদ্য প্রবৃত্তি। সহজ ভাষায়, যোগাযোগ হল দুটি সত্ত্বার মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান। মানুষ পৃথিবীতে আর্বিভাবের পর থেকে একে অপরের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে নিজেদের প্রয়োজনের কারণে। প্রথম অবস্থায় মানুষ ইশারায় বা সাংকেতিক ভাষায় যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন। পরবর্তীতে ভাষার পূর্ণ বিকাশ ঘটলে একে অপরের সাথে শব্দ বা বাক্যের বিনিময়ে যোগাযোগ প্রচলন শুরু হয়। বর্ণমালা আবিষ্কারের পর মানুষ লিখিত যোগাযোগের প্রচলন ঘটান। বর্তমানে, রেডিও, টেলিভিশন, প্রিন্ট মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেট ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা যোগাযোগ মাধ্যমকে করেছে অধিক গতিশীল।
যোগাযোগের সংজ্ঞা
যোগাযোগ শব্দটি ল্যাটিন শব্দ “Communis” থেকে এসেছে যার অর্থ “সকলের গোচরে আনা”। কার্যকর যোগাযোগ হল, যখন প্রেরকের দ্বারা প্রেরিত বার্তাটি প্রাপকের দ্বারা যথাযথভাবে অনুধাবন করা সম্ভব হয়। ভালো যোগাযোগ বলতে শুধুমাত্র একটি সত্তা থেকে অন্য সত্তায় তথ্য স্থানান্তর করার একটি প্রক্রিয়া নয়। এটি প্রথমে তথ্য শোনা বা পড়া, বোঝা, প্রক্রিয়াকরণ এবং তারপর তথ্য স্থানান্তর করার একটি শিল্প। অঙ্গভঙ্গি, কণ্ঠস্বর, শরীরের ভাষা এবং কথ্য ভাষা যোগাযোগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক। যদি অন্য ব্যক্তি এই কারণগুলির কোনটি বুঝতে অক্ষম হয়, তাহলে প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়।
ডিউই (Dewey)-এর মতে, যোগাযোগ বলতে বোঝায়, অভিজ্ঞতা সঞ্চারিত করা, যতক্ষণ পর্যন্ত না সাধারণ লোকদের মধ্যে বার্তা পোঁছায়। এর ফলে যে বার্তা প্রেরণ করছে এবং যে বার্তা গ্রহণ করছে উভয়ের চিন্তা-ভাবনায় পরিবর্তন ঘটে।
এডগার ডেল (Edgar Dale)বলেন, যোগাযোগ হল পারস্পরিক সহমতের ভিত্তিতে একে অন্যের সাথে নিজেদের ধারণা ও অভিজ্ঞতার বিনিময়।
উপরিউক্ত সংজ্ঞাগুলি বিশ্লেষণে বলা যায়, যোগাযোগ হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অপর একজন ব্যক্তির সাথে নিজ ধারণা, অনুভূতি, আদেশ, নির্দেশ, সিদ্ধান্ত ইত্যাদির পারস্পরিক আদান প্রদান ঘটায়।
যোগাযোগের প্রকারভেদ
যোগাযোগ প্রক্রিয়াকে সাধারণত চারভাগে ভাগ করতে পারি যথা-
মৌখিক যোগাযোগ
কথোপকথনের এই পদ্ধতিটি একটি বার্তা বোঝাতে শব্দের উপর নির্ভর করে। এটি যোগাযোগের একটি আদর্শ পদ্ধতি যা আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পারস্পরিক সাধারণ এবং বিশেষ তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহার করে থাকি। টেলিফোনে কথাবার্তা, বন্ধুর সাথে কথাবলা, কিছু ঘোষণা করা, বা বক্তৃতাদান সকলই যোগাযোগের মৌখিক রূপ। মৌখিক যোগাযোগ আরও চারটি উপশ্রেণীতে বিভক্ত। যথা-
- আন্তর ব্যক্তিগত যোগাযোগ (Intra-personal Communication): এই ধরনের যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তি তার নিজের কিংবা নিজ-সত্ত্বার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে থাকে। যেমন- চিন্তা করা, ডায়েরি লেখা ইত্যাদি।
- অন্তর ব্যক্তিগত যোগাযোগ (Inter-personal Communication): মুখোমুখি যোগাযোগ। যেমন- টেলিফোনে কথাবার্তা।
- দলীয় যোগাযোগ (Group Communication): এই ধরনের যোগাযোগ তখনই হতে পারে যখন সেখানে দুইজনের বেশি লোক জড়িত থাকে। যেমন- পরিবার, কমিটি ইত্যাদি।
- গণ-যোগাযোগ (Mass Communication): এক্ষেত্রে যোগাযোগ প্রাপক হয় একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী। যেমন- রাজনৈতিক সমাবেশ।
অ-মৌখিক যোগাযোগ
অ-মৌখিক যোগাযোগ এটি শব্দ ছাড়াই বার্তা প্রেরণ ও গ্রহণের মাধ্যমে যোগাযোগের প্রক্রিয়া হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে। অ-মৌখিক যোগাযোগে অঙ্গভঙ্গি, শারীরিক ভাষা, মুখের অভিব্যক্তি, চোখের ইশারা, পোশাক, কণ্ঠস্বর এবং অন্যান্য সংকেতগুলি একটি বার্তা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
লিখিত যোগাযোগ
লিখিত যোগাযোগ হল যেকোনো লিখিত বার্তা যা দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বিনিময় করে। লিখিত যোগাযোগ সাধারণত বেশি আনুষ্ঠানিক কিন্তু মৌখিক যোগাযোগের চেয়ে কম দক্ষ। লিখিত যোগাযোগের উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে: ইমেইল।
ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন
ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন হল তথ্য বা ধারনা আদান-প্রদানের জন্য ভিজ্যুয়াল উপাদান ব্যবহার করার একটি অনুশীলন। ভিজ্যুয়াল যোগাযোগের প্রকারের মধ্যে অ্যানিমেটেড জি.আই.এফ, স্ক্রিনশট, ভিডিও, পাই চার্ট, ইনফোগ্রাফিক্স এবং স্লাইড ডেক উপস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত।
আরও পোস্ট পড়তে - এখানে ক্লিক করুন
সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি- সেন, মলয় কুমার। শিক্ষা প্রযুক্তিবিজ্ঞান। সোমা বুক এজেন্সী, কলকাতা।
- https://cadreworks.org


