পরিসংখ্যা বিভাজনের ধারণা এবং গুরুত্ব

স্কোর বিন্যাসকরণের সময় একই স্কোর-সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ফলাফল বারবার না লিখে ওই স্কোরগুলির পাশে ব্যবহৃত সংখ্যাগুলিকে লেখা হয়, এই পুনরাবৃত্তিমূলক সংখ্যাকে পরিসংখ্যা (frequency) বলা হয় যা ‘f’ চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। কিংবা সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বিশৃঙ্খল রাশিতথ্যকে সুশৃঙ্খলভাবে সারিবদ্ধকরণ বা বিভাগীকরণকে বলে পরিসংখ্যা বিভাজন (Frequency Distribution)। এটি রাশিতথ্যকে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।
কোনো বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের প্রাপ্ত নম্বরগুলিকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে, একটি বিশেষ নম্বর যা একজন পেয়েছে কিংবা একাধিক পেয়েছে কিংবা কেউ পায়নি। একটি স্কোরগুচ্ছের মধ্যে একটি বিশেষ স্কোর কতবার এসেছে, তার সমষ্টিকে পরিসংখ্যা (frequency) বলে। যেমন- কোনো শ্রেণির 50 জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে 15 জন 60 পেয়েছে। এখানে 60 স্কোরের পরিসংখ্যা (‘f’) হল 15। কোনো পরিমাপ থেকে প্রাপ্ত স্কোরগুলিকে পরিসংখ্যান অনুযায়ী সাজানোকে বলা হয় পরিসংখ্যা বিভাজন (Frequency Distribution)।
পরিসংখ্যা বিভাজনে প্রাপ্ত স্কোরগুলিকে দু’ভাবে সাজানো যায়। প্রথমত, প্রাপ্ত স্কোরগুলিকে আলাদাভাবে ছোট থেকে বড় সাজিয়ে পরিসংখ্যা বিভাজনে উপস্থাপন করা যায়, একে একক পরিসংখ্যা বিভাজন বলা যায়। আবার যখন প্রাপ্ত স্কোরগুলিকে সুবিন্যস্তভাবে শ্রেণীবদ্ধ করে পরিসংখ্যা বিভাজনে উপস্থাপন করা হয়, তখন তাকে বিন্যস্ত বা শ্রেণীবদ্ধ পরিসংখ্যা বিভাজন বলা হয়।
একটি চিত্রের মাধ্যমে দুটি বিভাজনের উদাহরণ দেখানো হল-

উৎস- আচার্য, অধ্যাপক পূর্ণেন্দু। শিক্ষাক্ষেত্রে মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
পরিসংখ্যা বিভাজনের গুরুত্ব
পরিসংখ্যা বিভাজনের গুরুত্ব বা প্রয়ােজনীয়তা নিম্নে আলােচনা করা হল-
- স্কোরের প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা গঠন: যেকোনাে স্কোরের প্রকৃতি বা তার স্বরূপ সম্পর্কে ধারণা গঠন করা যায়, পরিসংখ্যা বিভাজনের ওই সংখ্যাটির অবস্থান দেখে।
- স্বল্প পরিসরে অর্থবহ ধারণা গ্রহণ: পরিসংখ্যা বিভাজনের মাধ্যমে যেকোনো স্কোরকে স্বল্প পরিসরের মধ্যে অর্থবহ করে তােলা সম্ভব।
- তুলনামূলক আলােচনা: পরিসংখ্যা বিভাজনের মাধ্যমে দুই বা ততোধিক দলের মধ্যেকার তুলনামূলক আলােচনা করা সম্ভব।
- ভুল-ত্রুটির সংশােধন: কোনো স্কোরের মধ্যে যদি কোনাে ভুল-ত্রুটি বা অসংগতি থেকে থাকে, তবে তা পরিসংখ্যা বিভাজনের মাধ্যমে সহজেই দৃষ্টিগােচর হয়।
- লেখচিত্র অঙ্কনে: পরিসংখ্যা বিভাজনের উপর নির্ভর করেই, সকল প্রকার লেখচিত্র অঙ্কন করা হয়ে থাকে।
আরও পোস্ট পড়তে - এখানে ক্লিক করুন
সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি- Mangal, S. K. Statistics in Education and Psychology. PHI Learning Private Limited, New Delhi.
- Ali, L. Statistics in Education and Psychology. Global Net Publication, New Delhi, India.
- আচার্য, পূর্ণেন্দু। শিক্ষাক্ষেত্রে মূল্যায়ন ও নির্দেশনা। শ্রীতারা প্রকাশনী, কলকাতা।
- ইসলাম, নূরুল। শিক্ষায় মূল্যায়ন ও পরিমাপ। শ্রীধর প্রকাশনী, কলকাতা।


