| |

পরিসংখ্যান – ধারণা, সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, উপযোগিতা এবং সীমাবদ্ধতা

অতি প্রাচীনকাল থেকে পরিসংখ্যানের (Statistic) যাত্রা শুরু। মানব সমাজের নানান ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পরিসংখ্যানের সাহায্যে শিক্ষাবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ইত্যাদি বিভিন্ন সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন তথ্যের তাৎপর্য নির্ণয় করা হয়ে থাকে। আর্টিকেল-এর এই অংশে আজ আমরা “পরিসংখ্যান – ধারণা, সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, উপযোগিতা এবং সীমাবদ্ধতা” নিয়ে আলোচনা করবো।

 

পরিসংখ্যানের ধারণা

ইংরেজিStatistics’ শব্দটি স্টেট বা রাষ্ট্র থেকে এসেছে। ‘Statistics’ শব্দটি ইতালীয় শব্দ ‘Statista’, জাপানি শব্দ ‘Statistik’ এবং লাতিন শব্দ ‘Status’ থেকে এসেছে। ‘Status’ শব্দটি প্রাচীনকালে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কাজের প্রতীক হিসাবে ব্যবহৃত হত এছাড়া সেই সব শব্দ, যা সেনাবাহিনী গঠন, কর আদায় ইত্যাদি কাজের জন্য রাষ্ট্রের প্রয়ােজনে লাগত। পরবর্তীকালে রাষ্ট্রের জনসংখ্যার সমস্যা, জন্ম-মৃত্যুর অনুপাত প্রভৃতি রাষ্ট্রের প্রয়ােজনীয় বিভিন্ন তথ্যাবলি সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ করা হত এবং তা থেকে অর্থপূর্ণ ব্যাখ্যা করা যেত। রাশিবিজ্ঞান গণিতের একটি বিশেষ শাখা হলেও বর্তমানে তা স্বতন্ত্র শাখা হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বর্তমানে পরিসংখ্যান বলতে বিভিন্ন কলাকৌশল ও পদ্ধতির সমন্বয়ে এমন একটি বিজ্ঞানকে বোঝায় যা সংখ্যা বা রাশিতথ্য নিয়ে আলোচনা করে।

 

পরিসংখ্যানের সংজ্ঞা

বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের দেওয়া পরিসংখ্যানের সংজ্ঞা নিম্নে তুলে ধরা হল-

Tate-এর মতে, “রাশিবিজ্ঞান হল গবেষণার এমন একটি উপকরণ যা সংখ্যাবাচক তথ্যসমূহকে সংগ্রহ করে এবং তাকে উপস্থাপনের মধ্যদিয়ে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করে।”

Lovit ‘Statistics’-এর সংজ্ঞায় বলেছেন, “এটি সেই বিজ্ঞান যেখানে ঘটনার ব্যাখ্যা, বর্ণনা এবং তুলনা করার জন্য প্রয়ােজনীয়ভাবে সংখ্যামূলক তথ্যাবলি সংগ্রহ ও সারণিকরণ করা হয়।”

 

পরিসংখ্যানের বৈশিষ্ট্য

পরিসংখ্যানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নে উল্লেখ করা হল-

  1. কোনো গুণবাচক তথ্যকে পরিসংখ্যান হিসাবে গণ্য করা হয় না, এটি অবশ্যই সংখ্যাবাচক হবে।
  2. পরিসংখ্যান হল একাধিক সংখ্যাগুচ্ছ, কোনো একটি সংখ্যাকে পরিসংখ্যান বলা যাবে না।
  3. পরিসংখ্যানে তথ্য এমনভাবে সংগৃহীত করা হয়, যাতে পরস্পরের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।
  4. পরিসংখ্যানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নতুন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়ে থাকে।

 

শিক্ষাক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের উপযোগিতা

শিক্ষাক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের ব্যবহার শুরু হয় সেই প্রাচীনকাল থেকে। বর্তমান সময়েও পরিসংখ্যান শিক্ষাক্ষেত্রকে নানাভাবে প্রভাবিত করে চলেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের উপযোগিতা হল-

  1. শিক্ষাগত তথ্যাবলির বিজ্ঞানসম্মত, সহজ, সরল ও নির্ভুল ব্যাখ্যাদানে সাহায্য করে।
  2. বিদ্যালয় স্তরে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের বিশেষ উপযোগিতা রয়েছে।
  3. ছাত্র-ছাত্রীদের স্কোরের মধ্যেকার তুলনা করার ক্ষেত্রেও এর বিশেষ উপযোগিতা রয়েছে।
  4. যেকোনো প্রাপ্ত তথ্যকে সুশৃঙ্খল করার ক্ষেত্রে।

 

পরিসংখ্যানের সীমাবদ্ধতা

শিক্ষাক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের সীমাবদ্ধতা হল-

  1. উপাত্ত সঠিক নাহলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না।
  2. গুণগত তথ্যের বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়।
  3. উদ্দেশ্যমূলক অপব্যবহার পরিসংখ্যানকে ভুল পথে চালিত করে।
  4. পরিসংখ্যান দ্বারা সবসময় এক ফল পাওয়া যায় না।

 

 

আরও পোস্ট পড়তে - এখানে ক্লিক করুন

 

 

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি
  1. Mangal, S. K. Statistics in Education and Psychology. PHI Learning Private Limited, New Delhi.
  2. Garrett, H. E. Statistics in Psychology and Education. Surjeet Publications, Delhi, India.
  3. Ali, L. Statistics in Education and Psychology. Global Net Publication, New Delhi, India.
  4. আচার্য, পূর্ণেন্দু। শিক্ষাক্ষেত্রে মূল্যায়ন ও নির্দেশনা। শ্রীতারা প্রকাশনী, কলকাতা।
  5. ইসলাম, নূরুল। শিক্ষায় মূল্যায়ন ও পরিমাপ। শ্রীধর প্রকাশনী, কলকাতা।

 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *