|

নির্দেশনা – অর্থ, সংজ্ঞা এবং কার্যাবলী

নির্দেশনা বলতে বোঝায় কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য বা কোনো কিছুর উন্নতির জন্য অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তির দেওয়া পরামর্শ বা মূল্যবান তথ্য। নির্দেশনা কথাটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, যেমন- ‘নির্দেশ করা’, ‘পরিচালনা করা’, ‘সাহায্য করা’ ইত্যাদি। জীবনের যাত্রাপথে গন্তব্যস্থলকে সুনির্দিষ্ট করে গতিকে সুপরিচালিত করতে ব্যক্তিগত সাহায্যদানের যে প্রক্রিয়া তাই হল নির্দেশনা, কিংবা সাধারণ অর্থে নির্দেশনা হল ব্যক্তিগত সাহায্যদানের প্রক্রিয়া।

মানুষ হল সামাজিক জীব এবং তাই কোনো না কোনোভাবে তাদের জীবনের নানান ক্ষেত্রে সমস্যা পরিলক্ষিত হতে দেখা যায়, এবং এই সমস্যা সমাধানের জন্য চাই যথাযথ নির্দেশনা। মা, বাবা, দাদা, শিক্ষক এবং অন্যান্য প্রবীণরা, গৃহে, বিদ্যালয়ে এবং সমাজে তরুণ তরুণীদের যথাযথ নির্দেশনাদানের মাধ্যমে তাদের জীবনের আরও উন্নততর দিকের সন্ধান দিয়ে থাকে। নির্দেশনা একজন ব্যক্তির শিক্ষাগত, বৃত্তিমূলক এবং মনস্তাত্ত্বিক দক্ষতার বিকাশে সহায়তা করে। বর্তমান শ্রেণীকক্ষে নির্দেশনা একান্তই অপরিহার্য। নির্দেশনা ব্যক্তি বিশেষকে তার জীবনের সর্বার্থ উপযুক্ত ক্ষেত্র, তার নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা এবং পারিপার্শ্বিক সঙ্গতিবিধানের সুযোগ সুবিধানুসারে পথ প্রদর্শন করা এবং সুপরিচালনা করা।

 

নির্দেশনার সংজ্ঞা

অধ্যাপক জোন্স (Jones)-এর মতে, “নির্দেশনা হল এমন এক ধরনের সাহায্য যা কোন বিশেষজ্ঞ অন্য কোন ব্যক্তির জীবনের লক্ষ্য গঠনে, লক্ষ্যের সঙ্গে যথাযথ অভিযোজনে এবং সাহায্যপ্রার্থী ব্যক্তির লক্ষ্যপূরণে বিভিন্ন বাঁধা ও সমস্যা নিরসনে সহায়তা করা।” (Guidance involves personal help given by a competent person; it is designed to assist a person in deciding where he wants to go, what he wants to do, or how he can best accomplish his purposes; it assists him in solving problems that arise in his life. It does not solve problems for the individual, but helps him to solve them. The focus of guidance is the individual and not the problem; its purpose is to promote the growth of the individual in self-direction.)

মনোবিদ Ruth Strange-এর মতে, “নির্দেশনা হল প্রত্যেক ব্যক্তিকে সাহায্য করার প্রক্রিয়া যার মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সুখ-সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যক্তি তার নিজস্ব প্রচেষ্টার মধ্যদিয়ে অন্তর্নিহিত সম্ভাবনার বিকাশ ঘটাতে পারে।” (Guidance is a process of helping every individual, through his own efforts, to discover and develop his potentialities for his personal happiness and social usefulness.)

 

নির্দেশনার বৈশিষ্ট্য
  1. নির্দেশনা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা আমৃত্যু পর্যন্ত চলতে থাকে।
  2. নির্দেশনা বাধ্যতামূলক নয়, নির্দেশনা গ্রহণ ও তা মান্য করা সম্পূর্ণরূপে সাহায্য প্রার্থীর উপর নির্ভর করে।
  3. জীবন বিকাশের সকল স্তরে নির্দেশনা সবার জন্য প্রয়োজন। নির্দেশনা একটি সাধারণ বা সর্বজনীন প্রক্রিয়া।

 

নির্দেশনার কার্যাবলী

নির্দেশনার বহুমুখী কার্যাবলী সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল –

  1. নির্দেশনা সকল রকম পরিস্থিতির সাথে ব্যক্তির সার্থক সমন্বয়ে সাহায্য করে।
  2. এটি এমন একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা ধারণা যা মানব সম্পদ বিকাশের জন্য প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এবং এটি এতটাই সমৃদ্ধশীল ধারণা যা সৃজনশীল শিক্ষার একটি নতুন মাত্রা হিসাবে বিস্তৃত অর্থে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে।
  3. দ্রুত পরিবর্তন এবং অগ্রগতিতে, ক্রমবর্ধমান ব্যক্তিদের নিজেদেরকে, অন্য ব্যক্তিদের সাথে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।
  4. নির্দেশনা প্রস্তুতিমূলক এবং প্রতিকারমূলক উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে থাকে।

 

 

আরও পোস্ট পড়তে - এখানে ক্লিক করুন

 

 

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি
  1. Seligman, Linda., Reichenberg, L.W. Theories of Counselling and Psychotherapy. Pearson.
  2. Ranganathan, Namita., Wadha, Toolika. Guidance and Counselling for Children and Adolescents in School. SAGE Publication.
  3. দাস, কৌশিক। নির্দেশনা ও পরামর্শদানের মৌলিক নীতিসমূহ। গ্লোবাল নেট পাবলিকেশন, কলকাতা।

 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *